বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিত করল শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট  আজকের ডাক | প্রকাশিত: বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ  

২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিইউপির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুজ্জামান।

এর আগে বেলা দুটায় মেয়র আতিকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিইউপির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, চালক সিরুজুল ইসলামের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না। হালকা যান চালানোর লাইসেন্স নিয়ে তিনি বাসের মতো ভারী যান চালাচ্ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নর্দ্দা এলাকার প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন আবরার। রাস্তার উল্টো পাশে ছিল আবরারের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে সেই বাসের কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখন ওই রাস্তায় দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে সুপ্রভাত পরিবহনের একটির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন আবরার। এরপর সেই বাসটি তাকে চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নিথর দেহ টেনেও নিয়ে যায় খানিকটা। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবরারের।

আবরার ছিলেন বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী, গৃহিণী মা ফরিদা ফাতেমী ও একমাত্র ছোট ভাই আবিদ আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে থাকতেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায়।

পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা আট দফা দাবি ঘোষণা করেন। বুধবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেও রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যান।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বসুন্ধরা গেট এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে যান মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ও বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ-উল বারী।

এ সময় মেয়র আতিকুল বলেন, ‘চালকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না। যে ড্রাইভার সু-প্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন, তার হালকা যান চলাচলের লাইসেন্স ছিল। এটি নিয়ে তিনি বাসের মতো ভারী যান চালাচ্ছিলেন। এটা কীভাবে সম্ভব! তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দ্রুত তার শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

 

-এডি/এইচএ

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ