শরীয়তপুরে শিশু হত্যা হয়ে যেতে পারে দুর্ঘটনা

শেখ নজরুল ইসলাম, শরীয়তপুর  আজকের ডাক | প্রকাশিত: রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ  

শরীয়তপুরে চঞ্চাল্যকর গবিন্দ্র হত্যার তদন্ত নিয়ে কানামাছি খেলা হতে পারে বলে অাসঙ্কায় গবিন্দ্রর পরিবার সহ এলাকাবাসি ! তাদের ধারনা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এমনটা হয়ে যেতে পারে ৷

খুব অাবেগময় হয়ে মৃত গবিন্দ্র মন্ডলের বাবা-মা বলেন- অামাদের গবিন্দ্রকে মেঘলা নিজ হাতে লবন খাইয়ে হত্যা করছে ৷ অামরা লোক মুখে শোনতাছি মেঘলা নাকি পুলিশের কাছে শিকার করছে সুজি খাওয়ানোর ফলে অামার ছেলের দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে ৷ অার এটা নাকি একটা দূর্ঘটনা ৷ অামাদের ছেলেকে কখনঐ মেঘলা সুজি খাওয়ায় নাই,তার কোলেও কখনও জাইতে চাইতো না ৷ মেঘলারে দেখলেই ভয়ে কান্নাকাটি করত ৷ অার মেঘলাও গবিন্দ্রকে কখনঐ কোলে নিত না অার অাদরও করত না ৷ খাওয়াইবেতো দুরের কথা ৷

মেঘলার সুজি খাওয়ানোর ফলে দূর্ঘটনা ঘটছে বলে জানা জাইতেছে,এই বিষয়ে গবিন্দ্রর মা দিপা রানি অারো বলেন- অামি অামার ছেলেকে খাইয়ে ঘুম পারাইয়ে স্নানে গেছি,দশ পনের মিনিট লাগছে স্নান করে ঘরে অাসতে ৷ এ সময়ের মধ্যে অামার ছেলে কখনঐ ঘুম থেকে উঠতে পারে না ৷ অামার ছেলে খাইয়া ঘুমাইলে দুই তিন ঘন্টা ঘুমায় ৷ অার উইঠা খাবারের জন্য কান্না করলেতো অামি শোনতাম,অামার শশুর দরজার সামনে বসা ছিল সেওতো শোনতো ৷ সব টাকা দিয়া এমন সাজাইতেছে ৷ মেঘলা কখনঐ অামার ছেলেরে সুজি খাওয়ায় নাই ৷ অামার ছেলে খাইয়া ঘুমাইছিল,দশ পনের মিনিটের মধ্যে খিদায় কান্না করতে পারে না ৷ অনেকের মুখেই শোনতাছি পুলিশ নাকি বলতাছে সুজির কথা,এটা নাকি একটা দূর্ঘটনা কিন্ত অামি অামার ছেলের নাক মুখে লবন দেখছি ৷ তারা টাকা খাওয়াইয়া এমন বলাইতাছে ৷ অামি অামার গবিন্দ্রর খুনি মেঘলার ফাঁসি চাই ৷ এভাবে পুত্র শোকে কাতর হয়ে কথাগুলা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন গবিন্দ্রর মা দিপা রানি ৷

কেন খুন করতে পারে  গবিন্দ্রকে এই বিষয়ে বিমল মন্ডল বলেন-মেঘলা অামার ভাগনী সে অামাদের বাসায়ঐ থাকতো ৷ এক মাস অাগে মেঘলা একটা ছেলের সাথে বিয়ের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায় ৷ অামরা মেঘলা অার পালিয়ে যাওয়া ছেলের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় মেঘলাকে দুই দিন পরে নিয়ে অাসি ৷ এতে মেঘলা অামার উপর খুবই রাগ হয়ে একবার গলায় রশি পেচিয়ে অাত্মহত্যার চেষ্টাও করে ৷ অার এই জন্যই সর্বশেষ ও অামার ছেলে গবিন্দ্রকে লবন খাইয়ে খুন করছে ৷

উল্যেখ গত শনিবার ২০ এপ্রিল সকাল ১০ ঘটিকার সময় দুই মাস বয়সি একমাত্র শিশুকে ঘরে ঘুমে রেখে গোসল করতে যায় শিশুটির মা দিপা রানি ,গোসল শেসে ঘরে ফিরে শিশুকে না পেয়ে চিৎকার দিয়ে শিশুকে খুজতে থাকে ৷ চিৎকার শুনে অাসে পাসের বাড়ির  লোকজন খোজাখুজি শুরু করে ৷ অনেকখন খোজাখুজির পরে বিমলের বড় বোন গিতা রানী মন্ডল শিশুটিকে ঘরের বারান্দার খাটের এক কোনে  ওয়ালক্লথের মধ্যে পেচানো মুখে এবং নাকের মধ্যে লবন ঢুকানো অবস্থায় পেয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটিকে মৃত্য বলে ঘোষণা করে ৷

এই বিষয় পালং মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা(তদন্ত ওসি ) হুমায়ুন কবির বলেন-শিশুটির মা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা একটি হত্যা মামলা করে ৷ আমরা অসামীকে ধরতে সক্ষম হই ৷ অাসামি মেঘলা একাই গবিন্দ্রকে হত্যা করছে বলে শিকার করছে ৷ এখন পোস্টমডাম রিপোর্ট অাসলেই নিশ্চিত বলা যাবে ৷

 

 

 

-এডি/এইচএ

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ