নড়াইলে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে নড়াগাতি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতি পদে পদোন্নতি

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল  আজকের ডাক | প্রকাশিত: রবিবার, মে ৫, ২০১৯ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ  

গঠনতন্ত্রের নিয়ম লংঘন করে নড়াইলের নড়াগাতি থানা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সাড়ে ছয় বছরের বিবাহিত রিয়াজুল ইসলাম খান রিয়াজকে সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতি পদ মর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে এবং মো.মোরসালিন খন্দকারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে নড়াইলের নড়াগাতি থানা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি ওই থানা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়ায় স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে সংগঠনটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে স্ত্রীর সঙ্গে তার ছবি ও কাবিননামার কপি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এদিকে, রিয়াজুল ইসলামের বিবাহের কাবিননামার একটি কপি, নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়ের হাতে এসেছে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের বিধি ২৩-এর উপবিধি ‘ক’তে বলা হয়েছে, ‘ছাত্রলীগের কোন সদস্য বিয়ে করলে পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলবেন।’ গঠনতন্ত্রের দ্বিতীয়ভাগের এই ধারা মেনে ছাত্রলীগের কোন কমিটিতে বিবাহিতদের কোন পদ দেয়া হয় না।

অনুসন্ধানে জানা যায়,২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নড়াইলের নড়াগাতি থানার টোনা গ্রামের বশির খানের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম খান রিয়াজ খুলনা জেলার তেরখাদা থানার আটলিয়া গ্রামের সেখ কবির আহমেদের কন্যা ফারজানা কবিরের সঙ্গে ৫ লাখ টাকা দেন-মোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এই বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেট কাটাবনের দ্বিতীয় তলায়। বিবাহটি রেজিষ্ট্রি করান ঢাকাস্থ নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও কাজী মাওলানা মো. সামছুদ্দীন।

নড়াইলের নড়াগাতি থানা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম খান রিয়াজ বিবাহিত বলে অনেকে ফেসবুকসহ স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে মন্তব্য করছেন। রিয়াজুল ইসলাম খান রিয়াজ নড়াগাতী থানা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিবাহ করেন এবং তিনি নিয়মিত ছাত্র নন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নড়াইলের নড়াগাতী থানা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আলিম জমাদ্দার, নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়কে বলেন, ‘থানা বা উপজেলা কমিটির অনুমোদন যদি কেন্দ্রিয় কমিটি দেয়, তাহলে জেলা কমিটির কাজ কোথায় ? এছাড়া রিয়াজ নিয়মিত ছাত্র নন। তাহলে একজন অছাত্র ও বিবাহিতকে কোন নিয়মে আবার সভাপতি পদ দেয়া হল তা আমাদের বোধগম্য নই। তাই বিবাহিত সভাপতি রিয়াজকে নিয়ে ফেসবুকে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে।’

এছাড়া ছাত্রলীগের স্থানীয় অনেক নেতা বলেন,‘কি এমন ঘটনা হলো যে হঠাৎ জেলা ছাত্রলীগ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে রহস্যজনক কারণে কেন্দ্রিয় কমিটিকে কেন নড়াইলের নড়াগাতী থানার কমিটি দিতে হলো ? রিয়াজের বিবাহের বিষয়টি তুলে ধরে তার সভাপতির প্রার্থীতা বাতিলের দাবিও তোলেন তারা।’

এ বিষয়ে নড়াইলের নড়াগাতি থানা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি রিয়াজুল ইসলামের মতামত জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

-এডি/ এএ

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ

%d bloggers like this: