ভোলায় ইউপি সদস্য সেলিমের অপকর্মে অতিষ্ট জনগণ

মীর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন  আজকের ডাক | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মে ২৮, ২০১৯ ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ  

ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সেলিম ওরফে রগকাটা সেলিমের অপকর্মের কাছে জিম্মি হয়ে আছে এলাকার জনসাধারণ।ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সেলিম।প্রতিনিয়ত ইয়াবা ব্যবসা, গরু চুরি, জমি দখল, জলদস্যুতা, নারী কেলেঙ্কারী, চাঁদাবাজি, জাল দলিল সম্পাদনসহ ভয়ঙ্কর  অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে তার নেতৃত্বেই। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় অত্যাচার চালিয়ে আসলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ। আবার কেউ প্রতিবাদ করে তার মিথ্যা মাললা-হামলায় নিপোতিত হয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বর্তমানে সেলিম মেম্বারের একচ্ছত্র দাপটে দক্ষিণ দিঘলদীর অধিকাংশ মানুষই জিম্মি হয়ে আছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, ৩ নং ওয়ার্ডের জেবল হকের ছেলে সেলিম। পিতার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সুত্রে চার শতাংশ জমির মালিক ছিলেন সেলিম। গত ২০১৬ সালে প্রথমবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েই সেলিম জড়িয়ে পরে ভয়ঙ্কর অপরাধের সাথে।চুরি, ছিনতাই ,জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে মেতে উঠে। এমনকি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মানুষের জমি জোড়পূর্বক  দখলে নেওয়ার লড়াই চালায়।তার সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে কেউ টিকে থাকেতে পারছে না। সঠিক কাগজ পত্রের তোয়াক্কা না করে এক পক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অন্য পক্ষের জমি দখল নেয়া ও দেয়া তার পেশা। এসব অপকর্ম করে  মাত্র তিন বছেরের ব্যাবধানে সেলিমের হাতে এখন আলাদিনের চেরাগ। তার অত্যাচারে দক্ষিণ দিঘলদীর বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী ও ৩ নং ওয়ার্ডের মানুষ অতিষ্ট।

৩নং ওয়ার্ডের মোখলেছুর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসি আলী আকবর জানান, বটতলা বাজারের গিয়াস উদ্দিন মাস্টার থেকে চার শতাংশ জমি ও রাইচ মিল ক্রয় করার পর তিনি এক সপ্তাহ পর সৌদি  আরব চলে যান। তিন দিন পর ওই দোকান ঘর ভেঙ্গে সেলিম মেম্বার বাড়িতে নিয়ে যায়। নাজমুল কাজীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে ওই জমিতে দোকান ঘর তৈরি করে দিয়েছে সেলিম। এমনকি সেলিম মেম্বার প্রবাসি আলী আকবরের পরিবার পরিজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আলী আকবর প্রবাসে থাকলেও এলাকার বিভিন্ন অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করে আসছেন। মসজিদ মক্তব, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আলী আকবরের অবদান প্রশংসনীয়। তার উপর অন্যায়ভাবে হয়রানি করছে সেলিম মেম্বার। কিন্তু আলী আকবর কোন সু-বিচার পাচ্ছে না। আলী আকবর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করে টাকা উপার্যন করে দেশের মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। এটাই কি আমার অপরাধ?

একই এলাকার সুলতান ছালাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার  ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর ঘর নির্মানের ফাউন্ডেশন করি । ওই সম্পত্তি সেলিম মেম্বার টাকার বিনিময়ে স্থানীয় গণিকে জোড় করে দখল দেয়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে সে ব্যাপক মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এছাড়াও সেলিম মেম্বার নানাবিধ অপকর্মের রোল মডেল হিসেবে ক্ষ্যতি পেয়েছে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বাগমারা ব্রিজের উত্তর পাশে বেড়ির ডালে  সেলিম দালালের বাসায় প্রতিনিয়ত দেহ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। কুক্ষ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মাইনউদ্দিন ও সেলিম মেম্বার দুই ছেলে শাকিল ও রাকিবের মাধ্যমে যুব সমাজের মাধ্যমে ইয়াবা ছড়িয়ে দিয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, সেলিম মেম্বারের ছেলে রাকিব পুলিশের চাকরী করলেও প্রতি মাসে কয়েকবার বাড়ী আসে মাদকের ব্যবসার কারণে।

অন্যদিকে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষের কাছ থেকে ভিজিডি ভিজিএফ এর কার্ড দেয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং উত্তর দিঘলদী ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নে সেলিম মেম্বারের আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে ছিদ্দিক মিস্ত্রীর নাতনীর  বিবাহের পর বাল্য বিবাহের ভয় দেখিয়ে বিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।সড়কের পাশে বন বিভাগের সরকারি মূল্যবান আকাশ মনি গাছ কেটে বিক্রি ও ফার্নিচার সামগ্রি তৈরি করে ব্যবহার করে সেলিম মেম্বার।

সেলিম মেম্বার বিভিন্ন বাহিনী তৈরি করে বাগমারা চরে জলদস্যুতা চালাচ্ছে নির্বিগ্নে । শালিস মিমাংশার নামে পক্ষ বিপক্ষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করে। বটতলা বাজারের মোশারেফের দোকান ঘর নির্মান করতে গিয়ে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। ৪নং ওয়ার্ডের কামালউদ্দিনকে আটক রেখে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। বাগমারা ব্রিজের উপর ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের কৌশলে আটকিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ব্লাকমেইল করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বটতলা বাজারের কশাই ব্যবসায়ী আবুল কাশেমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে এক লাখ টাক চাঁদা নিয়েছে।

বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী শিল্পী মিজানের কেচি গেইট ভেংগে মটর পাম্পসহ গুরুত্বর্পূন মালামাল ‍চুরি করে এবং ট্রলার ভর্তি উদ্ধার হওয়া চোরাইকৃত গরু থেকে দশটি গরু নিজের পরিচয়ে বিক্রি করে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

লম্পট সেলিম মেম্বার একই এলাকার নাগাসি বাড়ীর রনির স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনগণের হাতে ধরা পরে গণধোলাইর স্বীকার হয়। সেলিম মেম্বারের অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের হাত থেকে বাঁচতে সাবেক শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জনগণ।

এসব বিষয়ে সেলিম মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন অপকর্মের সাথে জরিত নয় বলে দাবী করেছেন।

-এডি/এইচএ

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ