পুলিশের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে জেল খেটেছেন ছাত্রলীগ নেতা সাংবাদিক ফাহাদ

 আজকের ডাক | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মে ২৮, ২০১৯ ৪:০১ অপরাহ্ণ  

ভোলায় গত ৪’এপ্রিল ২০১৯ইং তারিখে ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে রাত ১০:৩০মি: ভোলা সদর থানার কর্তব্যরত এস.আই রতনের নেতৃত্বে ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ভোলা জেলা জার্নালিস্ট ফোরামের সাবেক সাধারন সম্পাদক দৈনিক ভোলার বানী পত্রিকার সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ফাহাদকে গ্রেফতার করে ভোলা সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ভোলা সদর থানার ওসি ছগির মিঞার কাছে উক্ত ঘটনার কারন জানতে চাইলে ওসি জানান মাদক সেবনের অপরাধে ফাহাদকে গ্রেফতার করা হয়। এবং ফাহাদকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার ৫ই এপ্রিল মাধকদ্রব্য আইনে পুলিশ মামলার বাদী হয়ে তাহাকে কারাগারে পাঠায়। এদিকে সাংবাদিক আটকের খবর পেয়ে সাংবাদকর্মীরা ভোলা সদর থানায় ছুটে আসেন। এসময় তাহার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং পূৃর্বপরিকল্পিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে জানান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাংবাদিক ফাহাদ।

১৬মে২০১৯ইং তারিখে কোট ওসির সুপারিশ ম্যাজিস্ট্রেট কোট থেকে জামিন না দেয়। পরে,জজকোট থেকে জামিনে মুক্তি পান। এবং চোখের জল ভাসিয়ে তিনি সাংবাদকর্মীদের কাছে পুরো ঘটনাটি বর্ননা করেন। এসময় তার জবানবন্ধিতে বেড়িয়ে আসে ভোলার সদর থানার পুলিশ এবং কোট পুলিশের অনিয়মের বিভিন্ন তথ্যদি। এসময় তিনি তথ্যপ্রমানের ভিত্তিতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন,গত ৩-৪-১৯ইং তারিখে ভোলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের একটি বাল্যবিবাহ তথ্যসংগ্রহ করাকে কেন্দ্রকরে পুলিশের সাথে মতপার্থক্য নিয়ে বিরোধের জেরধরে এই ষরযন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা গ্রেফতার করে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এছাড়া গ্রেফতারের দুইদিন আগে অর্থাৎ ২-এপ্রিল দুপুরে ভোলার ম্যাজিস্ট্রেট কোট প্রাজ্ঞনে জামিন প্রাপ্ত আসামির কাছ থেকে চাদা আদায়ের দৃশ্যটি আন্তর্জাতিক চ্যানেল (কলকাতা টিবির) বাংলাদেশ ব্যুরোর জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুল হক রাসেলসহ ভোলা কোর্টের পুলিশ কনস্টেবল আঃ বাতেনের প্রকাশ্য চাদা আদায়ের একটি ভিডিও চিত্র ধারন করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে দ্বন্ড তাহার সৃষ্টি হয়। পরে রিপোট না দিতে সাংবাদিকের কাছে অনুরোধ জানায় কোট পুলিশের ওসি’সহ অন্যন্য পুলিশ কর্মকর্তাগন। এদিকে উক্ত ঘটনাটি ভোলা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন কলকাতা টিবি প্রতিনিধি রাসেল। পরে পুলিশ সুপার কনস্টেবল আঃ বাতেন এর অভিযোগে ব্যবস্থা সরুপ ম্যাজিস্ট্রেট কোট থেকে ভোলার মনপুরা উপজেলায় বদলি করেন বলেও জানান ভোলাত কোট ওসি । পরেদিন ৩’এপ্রিল ভোলার সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার তথ্যসংগ্রহ করতে সেখানে যান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো:মোতাহার মিয়ার কন্যা গুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মোসাম্মৎ হাছনার(১৪) সাথে ভোলা চর ভেদুরিয়ার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ(২০) পিতা,আবদুল কাদেরের পুত্রের বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্থানিয় এলাকার ইউপি মেম্বার মো:অলিউল্লাহ ও সাবেক ইউপি মেম্বার জামালের নেতৃত্বে সরকারি বিধির নিশেদাজ্ঞা আইন অমান্য করে বাল্যবিবাহ মত অপরাদ সংগঠিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও ঘটনাস্থলে ভোলার থানার এসআই হাসান’সহ পুলিশ ফোর্সের উপস্থিততে স্থানিয়রা বাল্যবিবাহ সংগঠিত করে। তখন অনিয়মের এই সাংবাদ প্রেরন করতে তথ্যদি সংগ্রহ করেন সাংবাদিক ফাহাদ,যেখানে বাল্যবিবাহের বর/কন্যা এবং অভিবাবকসহ স্থানিয় মেম্বারের জবানবন্ধি রেকড করেন এই সাংবাদিক। এ’ব্যাপারে স্থানিয় ইউপি মেম্বারকে জিজ্ঞস করলে আইন অমান্যকরে বাল্যবিবাহ কেন?এরুপ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,প্রসাসনকে ম্যানেজ করেই তা সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভোলা সদর থানার পুলিশের এসআই’কে জিজ্ঞেস করলে বলেন’উপরের নির্দেশ রয়েছে এবং ভোলা থানার ওসির সন্মতিক্রমে হচ্ছে বলেও জানান। তাই কোন আইনি ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত তথ্যদি ভিডিও চিত্র ধারনে পুলিশসহ স্থানিয় মেম্বার নিষেদ করে এবং বাধা দেয় একপর্যায় তাদের সাথে মতবিরোধ ঘটে। পরে উক্ত ঘটনা বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ২০১৭/০৮ এর ধারা মতে যেখানে অভিযুক্তদের ৬’মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০’হাজার টাকা অর্থদণ্ড বিধান থাকলেও কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পুলিশ?এমন প্রশ্নের জবাবে মুঠোফোনে ভোলা সদর থানার ওসি মো:ছগির মিঞা বলেন,বিষয়টি নিয়ে বারাবারি ও সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলেন। অপর এক প্রশ্নে পুলিশের বানিজ্যর করার অভিযোগ রয়েছে,এরুপ প্রশ্ন করলে তিনি এরিয়ে যান এবং একপর্যায় লাইন কেটে দেন। পরেদিন ৪’এপ্রিল বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত একটি ছবিসহ নিজ ফেইজবুক থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পুলিশের ভুমিকার কথা উপলব্ধি করে গনমাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল করে ফেইজবুকে পোষ্ট করেন। তারপর উক্ত ছবিটি ভাইরালের পরই স্থানিয় ইউপি মেম্বার পুলিশি হুমকি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং গ্রেফতারি ভয়ভীতি দেখান। তার কয়েক ঘন্টা পরই রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে সংবাদের তথ্যদি সংগ্রহ করতে গেলে ৭/৮জন পুলিশ সদস্য তাহাকে ভিত্তিহীন অভিযোগ দেখিয়ে আটক করে এবং তাহার মোবাইল ফোন জব্দ করে ভোলা সদর থানায় নিয়ে যায়। এ’ব্যাপারে সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন মুলত পুলিশের তথ্যদি সংগ্রহ এবং তাহার প্রতি ক্ষোভ থেকেই সামাজিকভাবে হেও করতে ও পরিকল্পিতভাবে প্রতিশোধমুলক ব্যবস্থা নিতেই তাকে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে জজমিয়া একটি নাটকীয় ঘটনা জন্মদিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। পাশাপাশি তাদের দুর্নিয়তি দামাচাপা দিতে বিতর্কিত কোট পুলিশের কনস্টবল আঃবাতেন এবং সদর থানার বাল্যবিবাহ দুর্নিয়তি এস.আই হাসানকে ভোলা থানা থেকে অন্যত্র বদলি করে। এছাড়া রাষ্টীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন সাংবাদিককে লাঞ্চিত করে নির্দোষীকে মিথ্যা ফাঁসিয়ে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায় বলেও জানান তিনি। এ’ব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবেদন জানিয়ে তাহার হস্তক্ষেপ কামনা করে তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভোলা জেলার সকল গনমাধ্যমকর্মি সাংবাদিক ফাহাদ।।

এসএস/এইচএ

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ

%d bloggers like this: