আদালত মুক্তি দিলেও মুক্তি মেলেনা ভোলার কারারক্ষী সরল বাবুর আদালতে!

মীর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ভোলা  আজকের ডাক | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০১৯ ১২:০৯ অপরাহ্ণ  

ভোলা কারাগারের নাম শুনলেই আতকে উঠে মানুষ। বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে এ কারাগারটি এখন দুর্নীতির মহাসর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। “রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এ স্লোগানটি পড়লেই শ্রদ্ধাভরে যেমনি মাথা নত হয়ে আসে, তেমনি আবার মাথা হেট হয়ে যায়। দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। অর্থ আর লোভ-লালসার কারণে প্রতিনিয়ত বিচারকদের আদেশ-নির্দেশও উপেক্ষিত হচ্ছে এদের কাছে।

টাকা ছাড়া মিলছে না মুক্তি, বন্দীদের সাথে সাক্ষাতেও চরম হয়রানির স্বীকার হয় স্বজনরা। সকল অনিয়মই যেনো নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন অযুহাতে দুর্নীতি হলেও (অফিস সহকারী হাজতি শাখা কারারক্ষী) সরল বাবুর দুর্নীতি হচ্ছে অত্যান্ত ভয়ংকর। তাকে ম্যানেজ না করে কোন কিছুই যেন সম্ভব হচ্ছে না। এমনই চিত্র উঠে এসেছে অনসুন্ধানে।

জানা যায়, অফিসে হাজতি শাখায় দায়িত্বরত কারারক্ষি সরল বাবু নিয়ম বহির্ভুতভাবে বন্দীদের নানা অজুহাতে জিম্মি করে কারাগার থেকে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। প্রতিনিয়ত তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে কারাবন্দী ও বন্দীর স্বজনরা। কারা ফটকের বাইরে অবস্থানরত কারারক্ষীর কাছ থেকে অনুমতি স্লিপ নিয়ে দেখা করতে গেলেও প্রত্যেককে গুণতে হচ্ছে ৫০ টাকা ১০০শ টাকা। আবার বন্দীর পিসিতে টাকা দিতে গেলেও শতকরা ১০ টাকা হারে বেশি দিতে হয়। পিসিতে যে টাকা নেয়া হয়, সেই টাকাও জমা না দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও স্বজনরা অফিস কালে বন্দীদের সাথে দেখা করতে গেলে জনপ্রতি ৩শ টাকা করে হাদিয়া দিতে হয়। এ টাকা দিতে না পারলে বন্দীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয় না।

ভূক্তভোগী দর্শনার্থী জসিম উদ্দিন মাষ্টার অভিযোগ করেন, “শুক্রবার দুপুরে তার বন্দীর পিসিতে এক হাজার টাকা জমা দিতে চাইলে বাইরে দায়িত্বরত কারারক্ষী জাহাঙ্গির অতিরিক্ত ১০০ টাকা না দিলে কোনো টাকা জমা নিবে না বলে জানায়। পরে হাদিয়া দিয়ে পিসির টাকা জমা দিতে হয়।” একই অভিযোগ করেছেন হাবিব নামের এক ভূক্তভোগী। সে তার আত্মীয়র পিসিতে ৫০০শ টাকা জমা দিতে চাইলে অতিরিক্ত৫০ টাকা দিয়ে জমা দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে সরল বাবুর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, জামিনপ্রাপ্ত বন্দীদের বেলবন্ড কারাগারে পৌঁছিলে নাম ঠিকানা ভুল হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে নেয়া হয়। টাকা না দিলে বেলবন্ড দেরিতে আসার অজুহাতে বন্দীকে না ডেকে লকাবে রেখে দেয়া হয়। প্রতি জামিনপ্রাপ্ত বন্দীর কাছ থেকে টাকা না নিয়ে কাউকে মুক্ত হতে দিচ্ছে না সরল বাবু।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোলা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফজলে রাব্বি সাগর। তিনি জানান, তার জামিন হলেও বহু দেন-দরবারের পর সরল বাবুকে এক হাজার টাকা দিয়ে কারাগার থেকে বের হতে হয়েছে।

অপর এক ভুক্তভোগী মনছুর আলম জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি তার জামিনের বেলবন্ড কারাগারে আসলেও টাকা না দেয়ায় তাকে ছাড়া হয়নি। পরদিন তার ভাইয়ের মাধ্যমে দেনদরবার করে পাঁচশ টাকা দিলে তবেই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সরল বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ মিথ্যা বলে এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে জেল সুপার নাছিরউদ্দিন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন, আজ তিন বছর হয়ে গেলো কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনারা কি শুরু করেছেন, আপনারা আমাকে ফোন দিয়ে ডিষ্ট্রাব (বিরক্ত) করছেন। যেসব অভিযোগ পেয়েছেন প্রকাশ করে দেন।

তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক কারাগারে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কয়েকটি অভিযোগ ইতিপূর্বেও আমার কাছে এসেছে। এগুলো তদন্ত চলছে।”

 

 

 

 

-এডি/ এএ

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ

%d bloggers like this: