পাঁচ জনকে নিয়ে বোমা ফাটিয়ে কারাগারে গেলেন দুদকের বাছির

 আজকের ডাক | প্রকাশিত: বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯ ৭:২২ অপরাহ্ণ  

এম ইউ মাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি- নানা কৌশল অবলম্বন করেও নিজেদের বাঁচাতে পারলেন না হালের ঘুষ কেলেংকারীর দুই হোতা পুলিশের আলোচিত সমালোচিত ডিআইজি মিজান ও দুদকের পরিচালক বাছির। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ঘুষ কেলেংকারীর মামলায় ডিআইজি মিজান ও ঘুষ কেলেংকারীতে এনামুল বাছির দু’জনেই বরখাস্ত হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।

২২ জুন সোমবার দুদক তদন্তদল কর্তৃক খন্দকার এনামুল বাছির গ্রেফতার হন। মঙ্গলবার বাছিরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে বাছিরকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। বাছির গ্রেফতারের আশংকায় নিজেকে বাচাঁতে বহু চেষ্টা করেও গ্রেফতার এড়াতে পারেন নি। দুদকের জালে ধরা পড়ে শেষ পর্যন্ত কারাগারেই যেতে হল ঘুষ গ্রহনে অভিযুক্ত বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে।

তবে তিনি কারাগারে যাওয়ার পূর্বে ১০ই জুন দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান দুদকের উপ-পরিচালক ফানাফিল্লাহকে দেয়া তাঁর আইনজিবী কামাল হোসেনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য নিজেকে নির্দোষ দাবী করে ফাঁসকৃত অডিও মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।এতে তিনি দাবি করেন ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন দুদকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাকে (খন্দকার বাছির) দিয়ে ডিআইজি মিজানের পক্ষে অনুসন্ধান প্রতিবেদন চাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ওই কর্মকর্তারা।

এরপরই তাকে এ অভিযোগে জড়ানো হয়।প্রসঙ্গত ডিআইজি মিজানের সঙ্গে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে তাকে গত ১০ জুন দুদক পরিচালক পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।বাছির নিজেকে নির্দোষ দাবী করে পাচঁজনকে দায়ী করেছেন।তারা হলেন যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক দুদক চেয়ারম্যানের বন্ধু আবদুল দয়াছ,দুদক পরিচালক কাজী সফিক ও নাসিম আনোয়ার এবং অবসরে যাওয়া পরিচালক আবদুল আজিজ ভুঁইয়া ও জায়েদ হোসেন খাঁন।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিতে ডিআইজি মিজানুর কাছ থেকে দু’দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গহন এবং ছেলের স্কুলের জন্য গাড়ি দাবী করার অভিযোগ উঠে বাছিরের বিরুদ্ধে। এরপর পরিচালকের পদে থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক।পরে এ ঘটনায় অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক ফানাফিল্লা ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান এবং সালাউদ্দীনের সমন্বয়ে ৩ সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়।

ওই টিম ডিআইজি মিজানুর কাছ থেকে খন্দকার এনামুল বাছিরের ঘুষ নেয়া,ঘুষের বিষয়ে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে এনটিএমসির ফরেনসিক রিপোর্টের সূত্র ধরে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।গত বছরের ২৯ অক্টোবর ডিআইজি মিজানের সম্পদ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান বাছির।এর আগে অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিচালক ফরিদ আহম্মেদ পাটোয়ারী। তিনিও মিজানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন।আর মিজান ও তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এনেছিলেন।এ কারনে পাটোয়ারীকে দুদক হতে বরখাস্ত হতে হয়েছে।

মিজান নিজে বাঁচার জন্য আমাকে ফাসিঁয়েছেন। ঘুষ কেলেঙ্কারীর অডিও প্রকাশের নাটক সাজিয়েছেন।ঘুষ লেনদেনের অডিও প্রকাশের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার এনামুল বাছির বলেছেন
,”কথোপকথনের এক সেট অডিও সত্য ধরে দুদক আমার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। অন্যদিকে কথোপকথনের আরেক সেট অডিও আমলে নিচ্ছে না দুদক।

ওই অডিওতে লন্ডন প্রবাসী আবদুল দয়াছ,দুদক পরিচালক কাজী সফিক নাসিম আনোয়ার এবং অবসরে যাওয়া পরিচালক আবদুল আজিজ ভুঁইয়া ও জায়েদ হোসেন খানঁকে নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এটা ১ম পর্ব-চোখ রাখুন পরের পর্বে…

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ