জাতিসংঘ ঘোষিত “Local Youth Actions for the SDGs and Beyond”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে পাবনায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা। আয়োজনের প্রতিটি মুহূর্তে ছিল তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।
দিনের শুরুতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রফিকুল ইসলাম বকুল মিলনায়তনের সামনে থেকে র্যালি বের হয়। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর তরুণদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত র্যালিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আব্দুল হামিদ রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা পাবনা প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় মিলিত হন।
বর্ণাঢ্য সমাবেশে তরুণ নেতৃত্বের উপস্থিতি:
সভায় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ, জেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান মোঃ নাহিমুর রহমান, উৎসর্গ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পাবনা জেলা সভাপতি আব্দুস সামাদ নোমান, স্বাধীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি মোঃ আসিফ শেখ ও আব্দুর রহমান শাওন, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (পাবনা) এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ইয়ুথ ফর পলিসি পাবনা টিম লিড মো. আরিফুজ্জামান, বিডি ক্লিন পাবনা প্রতিনিধি, একতা বন্ধু উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ রাশেদ বিশ্বাস, স্বপ্নচূড়া ব্লাড ডোনেশনের সভাপতি, ২৪-এর নবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট যুব রেড ক্রিসেন্ট, তারুণ্যের অগ্রযাত্রা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক জুবায়ের খান প্রিন্স সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, জেলা পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করতে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ ও যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা সামাজিক পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বক্তারা দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সময় ও শ্রম বিনিয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তরুণদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তাদের মতে, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যুব সমাজই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার, সামাজিক নেতৃত্ব ও উদ্যোগী মনোভাবের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের ছোট উদ্যোগগুলোও জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে সক্ষম।
আলোচনা শেষে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবীরা সমাজ উন্নয়ন, ঐক্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উদ্ভাবনী পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
