ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা।
বুধবার (৬ আগস্ট) দাশুড়িয়ায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “শামসুদ্দিন মালিথা একজন বহুল আলোচিত ও ঘন ঘন দলবদলকারী রাজনীতিবিদ, যিনি একাধিকবার আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।”
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুদ্দিন মালিথা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তার অনুসারীরা ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার পর্যন্ত পুড়িয়ে দেন। এ কারণে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দাশুড়িয়া ইউনিয়নে সংঘটিত সকল সহিংস ঘটনার নেপথ্যে শামসুদ্দিন মালিথার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা দলীয় ঐক্য বিনষ্টের অপচেষ্টার শামিল।
সুলভ মালিথা বলেন, “আমরা চাই, বিএনপির নেতৃত্বে প্রকৃত ত্যাগী ও আদর্শবান নেতারা সামনে আসুক। বিভ্রান্তিকর, সুবিধাবাদী রাজনীতির কোনো স্থান ঈশ্বরদী বিএনপিতে থাকবে না।”
সুলভ মালিথা আরো বলেন, “গত ১ আগস্ট ঈশ্বরদী বিএনপির একাংশের সভায় এবং ৩ আগস্ট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদ্য কারামুক্ত মজলুম জননেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন ও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক, হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট।”
তিনি আরও বলেন, “তুহিন কখনো হত্যার রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। বরং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর শামসুদ্দিন মালিথার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, “২০০৩ সালে যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক মেম্বার হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুহিনসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তুহিন নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর কারামুক্ত হয়েছেন।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কারামুক্তির পরপরই শামসুদ্দিন গং আবারও নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক পান্জু রহমান সরদার, সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরদার, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভাষা প্রামানিক, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রোকেয়া হাসেম, সাধারণ সম্পাদক চামেলি আক্তার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মানারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক সাইফুল ইসলাম পন্ডিত, অনিক খন্দকার, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিকি, সদস্য সচিব বিপুল মোল্লা, ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক মহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শহীদ মন্ডল, উপেজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক জাহিদ হাসান, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাকি, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মন্ডল, ঈশ্বরদী উপজেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ পলাশ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম, ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা জীবন মোল্লা, মেরিদুল ইসলাম, আকাশ খান প্রমুখ সহ ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অঙ্গসংগঠনের আহবায়ক, সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
