ঢাকামঙ্গলবার , ২১ মে ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লাল টস টসে লিচুতে রঙিন ঈশ্বরদী, তবুও কৃষকের মুখে নেই হাসি

আজকের ডাক - সম্পাদক ও প্রকাশক
মে ২১, ২০২৪ ৫:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

লিচুর রাজধানী খ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু বাজারগুলো লাল টস টসে লিচুতে রঙিন হতে শুরু করেছে। তবুও কৃষকের মুখে নেই হাসি।

মঙ্গলবার (২১ মে) ঈশ্বরদীর সবচেয়ে বড় লিচু বেচাকেনার হাট জয়নগর শিমুলতলাসহ আওতাপাড়া, দাশুড়িয়া, সিলিমপুর লিচু বাজার ঘুরে দেখা যায় ভোর থেকেই বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা, আড়তদার ও ফড়িয়া লিচু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। তাছাড়া লোকাল ক্রেতা তো আছেই। পাইকারী ব্যবসায়ীরা ঈশ্বরদীর লিচু পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশি জাতের পাশাপাশি বোম্বাই জাতের লিচুও উঠতে শুরু করেছে বাজারে।

চরমিরকামারী গ্রামের লিচু চাষী ইমদাদুল সরদার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার নিজস্ব কয়েকটি লিচু বাগান রয়েছে। তাছাড়া আরো ৩টি লিচু বাগান মুকুলসহ কিনেছি। লিচুর গুটি আসার পর থেকেই টানা একমাস ঈশ্বরদীতে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। তাপমাত্রা অধিক হওয়ায় লিচু পাকার এক সপ্তাহ আগে হলুদ ও লালচে রং ধারণের সময় লিচুর ওপরের আবরণ কালচে হয়ে ফেটে যেতে শুরু করে। এবার আকারও ছোট হয়েছে।

নওদাপাড়া গ্রামের লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী সজিব হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টি এবং নিম্নমানের সার কীটনাশক প্রয়োগের কারণে লিচুর মান ঠিক পর্যায়ে আসেনি। এবার লিচু চাষীদের লোকসান গুনতে হবে।

আওতাপাড়া এলাকার কয়েকজন লিচু চাষীর সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের কোন প্রকার পরামর্শ বা সহযোগীতা আমরা পাইনি। সারের ডিলাররা যে পরামর্শ দেয় সেই ভাবেই আমরা চাষ করি। নিম্নমানের সার ও কীটনাশক বাজারে থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচু চাষী আব্দুল জলিল কিতাব বলেন, এবার অনাবৃষ্টির কারণে লিচুর ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রং বিবর্ণ হয়ে গেছে। বেশ কিছু লিচু নষ্ট হয়ে ফেটে যাচ্ছে। ৫০ হাজার লিচু বাগান থেকে সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে ১০ হাজার লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবছর ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। লিচুর জাতের মধ্যে রয়েছে মোজাফ্ফর (দেশি), বোম্বাই ও চায়না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, প্রচন্ড তাপপ্রবাহ থেকে লিচুকে রক্ষা করতে চাষীদের সেচ ও কীটনাশক ব্যবহার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আমাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ। যারা নিয়মিত সেচ দিয়েছেন তাদের লিচুর ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। অসাধু কীটনাশক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!