পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে গমের আবাদে সন্তোষজনক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আজ (৮ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকির ফলে এ বছর গমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আটঘরিয়া উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৪’শ৫৪ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি জমিতে গম চাষ হওয়ায় কৃষি বিভাগ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অধিকাংশ জমিতেই উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের চাষ করা হয়েছে, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে চোখে পড়ছে সবুজ গমক্ষেত। এর মধ্যে সুবেনের ২ বিঘা, আব্দুল্লার ২৫ শতাংশ, কামালের ৫ বিঘা, নরেনের আধা বিঘা, কেতুর আধা বিঘা, জামালের ৩ বিঘা এবং শুকুমারের আধা বিঘা জমিতে গমের আবাদ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে অধিকাংশ গমক্ষেত শীষ ধরার পর্যায়ে রয়েছে, যা ফলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।
মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে দেখা গেছে, গমের ক্ষেতে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের তেমন কোনো আক্রমণ নেই। কৃষকেরা নিয়মিত পরিচর্যা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও সেচ দিচ্ছেন। এতে গাছের বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধানের তুলনায় গম চাষে খরচ কম লাগে এবং সেচের প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি সময়ও কম লাগে বলে কৃষকেরা গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বাজারে গমের চাহিদা ভালো থাকায় উৎপাদিত গম বিক্রি নিয়ে তারা আশাবাদী।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আটঘরিয়ায় গমের উৎপাদন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, চলতি মৌসুমে আটঘরিয়া উপজেলায় গম চাষ কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
