পাবনার আটঘরিয়ায় মৌসুমি কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মূলকাটা পেঁয়াজ চাষের পরিচর্যায়। শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে সবুজ পেঁয়াজ গাছের সমারোহে চারদিকে যেন সবুজের উৎসব। কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর, একদন্ত, লক্ষ্মীপুর, মাজপাড়া, চাঁদভা ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক হেক্টর জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা জমিতে নিড়ানি, সেচ ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, গত বছর ভালো দাম পেয়েছিলাম, তাই এবার একটু বেশি জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছি। এখন নিয়মিত সেচ ও আগাছা দমন করছি। আল্লাহ চাইলে ফলন ভালো হবে।
কৃষক আলম জানান, আমার সোয়া বিঘা জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছি। বীজ খরচ ১৮ হাজার টাকা, লেবার, সার-কীটনাশক ও সেচসহ খরচ ১২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তবে জমি লিজ নিয়ে চাষ করলে খরচ আরও বেড়ে যায়। দাম ও ফলন কম হলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়, যার বাজারমূল্য ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত আশা করা যায়।
আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের কয়ড়াবাড়ি মাঠে অনেকেই মূলকাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছে। তার মধ্যে আমার আধা বিঘা, কামাল আধা বিঘা, আজির উদ্দিন তিন পোয়া, জিয়ারুল ১২ শতক, কালাম আধা বিঘা, আর শাহেদ সরদার তিন পোয়া জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কার্তিক মাসের শুরুতে রোপণ করা এই পেঁয়াজ চৈত্র মাসে ঘরে তুলতে পারবো বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, মূলকাটা পেঁয়াজ চাষে এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন বেশ দক্ষ। সময়মতো পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কৃষকদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সার-বীজ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে আটঘরিয়া উপজেলায় কয়েক হাজার টন মূলকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে এবং স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
