পাবনা সদর উপজেলার পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ডের উত্তর শালগাড়িয়া সরদারপাড়া ঘাটপাড় এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফসা (৯)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নানী বাড়ি থেকে শিশু হাফসা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং মাইকিং করেন। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে পাটিতে মোড়ানো কাদামাখা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত হাফসা এলাকার মল্লিক সরদারের নাতনি ও কামার গ্রামের প্রবাসী হাফিজুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পেছনের ঝোপঝাড়ে লাশটি উদ্ধার হয়।
স্থানীয়রা জানান, যে স্থানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া গেছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বখাটেদের নেশা করার একটি আড্ডাস্থল। ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না। জায়গাটি জনবহুল নয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলও কম।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে রমজান (২৮) ও সাব্বির (২৫) নামের দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনো দিক নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই ঘটনাস্থলে যান পাবনা সার্কেল এএসপি শরিফুল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম, তদন্ত ওসি সঞ্জয় কুমারসহ থানার সাতটি গাড়িবহর ফোর্স। পাশাপাশি পিবিআইয়ের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেন।
এএসপি শরিফুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি খুবই সংবেদনশীল। শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিকসহ সব ধরনের তদন্ত চলছে। আমরা জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি।”
এলাকাবাসী শিশুটির হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
