ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দল সমর্থিত জোটের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি ৪৮ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও আটঘরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল নিজেই ইশতেহার পাঠ করেন।
ইশতেহারে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রেলগেটে আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু, সড়ক ও জনপথের মানোন্নয়ন এবং যানজট নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আটঘরিয়ায় আধুনিক কৃষি কলেজ ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, কৃষিভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের আশ্বাস দেন অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। পাশাপাশি দুই উপজেলায় আধুনিক স্টেডিয়াম ও খেলাধুলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রণোদনা প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এছাড়াও পদ্মা নদীর ভাঙনরোধে গাইড বাঁধ নির্মাণ, পরিবেশ ও জলসম্পদ সংরক্ষণ, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল।
পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. নুরুজ্জামান প্রামানিক, সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম, আটঘরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা নকিবুল্লাহ, সাবেক আমির হাফেজ আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
