দীপ্ত যাত্রার দীর্ঘ পথ চলা শেষে গৌরবময় প্রান্তে পৌঁছে নাটোরের লালপুরের মঞ্জিল পুকুর কৃষি কারিগরি ও বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে ।
সৃষ্টিশীলতা, শৃঙ্খলা ও স্মৃতিময়তার ২৫ বছরের গৌরবগাথা উদযাপনে শনিবার ১৩ ডিসেম্বরে পতাকা উত্তোলন, রজতজয়ন্তীর ফলক উন্মোচন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, অনুষ্ঠিত হয় ।
অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান আলী’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ।
প্রধান আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের প্রথিতযশা অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন।
বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এ্যাড. তাইফুল ইসলাম টিপু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন- মঞ্জিলপুকুর কৃষি কারিগরি ও বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয় বিগত ২৫ বছরে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগামী দিনেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।
প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে শিক্ষার গুণগতমান কারিগরি ও কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পিছনে ছিল একটি স্বপ্ন- গ্রামীন জনপদের শিক্ষার্থীদের জন্য যুগোপযোগী কৃষি কারিগরি ও বাণিজ্যিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ চলায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আজ আমরা রজত জয়ন্তীর গৌরবময় প্রান্তে পৌঁছেছি। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয় বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সাফল্য।
প্রতিষ্ঠানটি জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক জাকির হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান সরকার, লুৎফর রহমান, ফজের আলী, মাজদার আলী ডাক্তার, আব্দুস সালাম, রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক রুহুল কুদ্দুস কোহেল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ শামসুজ্জোহা উজ্জ্বল, প্রভাষক ওয়ালিউর রহমান কিরণ সহ অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।
রজতজয়ন্তী উপলক্ষে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন অতিথি শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মাঝে স্বারক পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রতিষ্ঠানটির বিগত দিনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির ছবি আবেগঘন গানের সাথে প্রদর্শন করা হয়। এসময় শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আবেগ আপ্লুত হয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
