পাবনার বিসিক শিল্পনগরীতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ভেজাল ও অনুমোদনহীনভাবে কীটনাশক ও সার উৎপাদনের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ১৬ জুন সোমবার বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে দেখা যায়, ‘গ্রিনল্যান্ড ক্রপ কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের মোড়কে “ঈশ্বরদী” লেখা থাকলেও আসলে তা গোপনে পাবনার বিসিক শিল্পনগরীর ২ নম্বর গেটে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি বীজ ও কৃষি পণ্যের মোড়কজাতকরণে সরকারি নীতিমালা ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ‘লাইন এগ্রি কেয়ার’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সরকার অনুমোদিত ‘ফ্রিপোনিল’ নামক কীটনাশকের নকল করে পণ্যে একই নাম ও নিবন্ধিত নম্বর (এপি ও নম্বর) ব্যবহার করছিল, যা স্পষ্টতই প্রতারণামূলক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে সহায়তা করেন পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল।
সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, “কৃষি পণ্য এবং কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা ও অনুমোদিত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দেশের কৃষি ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিতভাবে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত বীজ, কীটনাশক, সার, মোড়ক, সিলার মেশিন, ও অপরিশোধিত কাঁচামাল জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশের সুযোগ ছিল এবং তারা ছবির মাধ্যমে চিত্র ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, এসব অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে গোপনে পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযানের ফলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভোক্তারা।
