পাবনা জেলা বিআরটিসির ডিজিএম প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের ঘটনা সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
কর্মচারিদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দাপ্তরিক তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসে।
তদন্তে জানা যায়, পাবনা ডিপোতে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক চালক নিয়োগ রয়েছে।প্রতিটি বাসের একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে দুইদিন সময় লাগে। এরপর চালকদের নিয়মিত বিশ্রাম, কখনও বাড়তি ছুটি দেওয়া হয়। বিশ্রাম শেষে অফিসে হাজিরা দিতে হয়, তারপর তাদের ডিউটি দেয়া হয় মাঝে মাঝে। এতো সুবিধার পরেও বেশ কয়েকজন চালক অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং হাজিরা খাতায় অনিয়ম করেন। নিয়ম অনুযায়ী এসব অনুপস্থিতি এবং অন্যান্য অনিয়মের রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠানোর কারনে একাংশ চালক ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ডিজিএম এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
অফিসে অনিয়ম করায় চালক-সি নুর আলমকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হলেও তিনি নিয়ম ভঙ্গ করে পুনরায় পাবনাতে অবস্থান করেন। অপরদিকে চালক-সি মাহাবুল আলম একাধিক ট্রিপের টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন—যার পরিমাণ প্রায় দুই লাখধিক টাকা। এদের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠানোর পরই কথিত ‘আন্দোলন’ শুরু হয়।
অভিযুক্তরা ডিজিএম-এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন নারী কেলেঙ্কারির তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রশাসনিক মর্যাদা নষ্টের অপচেষ্টা চালান। এই চক্রে চালক গোলাম মোস্তফা-২, সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, হাসান মতিউর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, নুরুজ্জামান ইমন এবং কন্ট্রাক্টর কামরুল হাসানসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। এমনকি ডিউটির দায়িত্বহীনতা, ডেমারেজ ও জরিমানা পরিশোধ না করা এবং ইঞ্জিনসহ যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে তা ডিজিএমের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।
ডিজিএম বিষয়টি হেড অফিসে জানালে জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মেজর মো. নিজাম উদ্দিন এবং পরিবহন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম পাবনা ডিপোতে এসে সরেজমিন তদন্ত করেন। পাশাপাশি পুলিশ, এনএসআই ও স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানেও একই চিত্র উঠে আসে।
শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা নিজেদের অপকর্ম স্বীকার করে লিখিত ও ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ এবং ডিজিএমের কাছে ক্ষমা চান। হেড অফিস সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেওয়ায় বর্তমানে ডিপোতে শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে এবং সকলেই নিয়মমাফিক ডিউটি করছেন বলে জানা গেছে।
