ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদীর সেই কুকুরছানা হত্যা মামলা: মায়ের সঙ্গে কারাগারে নিষ্পাপ ২ বছরের শিশু

আজকের ডাক - সম্পাদক ও প্রকাশক
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ৫:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

ঈশ্বরদীতে কুকুরছানা হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া গৃহবধূ নিশি রহমান (৩৮)-কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কারাগারে গেছে দুই বছরের শিশু সন্তান, যেহেতু শিশুটি এখনও দুগ্ধপোষ্য।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঈশ্বরদী থানা থেকে নিশি রহমানকে পাবনা আমলী আদালত-২-এ নেওয়া হয়। আদালতে পৌঁছানোর সময় তাঁর কোলে শিশুটিকে দেখা যায়। শুনানি শেষে বিচারক তরিকুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নিশি রহমানের স্বামী হাসানুর রহমান নয়ন, যিনি ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে কর্মরত, বুধবার রাতে মোবাইলে বলেন,আমাদের তিন সন্তান। ছোট ছেলে বয়স বছর। সে এখন মায়ের সঙ্গেই কারাগারে আছে।

তিনি জানান, আদালতে তাঁর স্ত্রীর জামিন আবেদন করা হলেও সেদিন শুনানি হয়নি। বিষয়টি আদালত ডিসেম্বর (রবিবার) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার ওমর ফারুক বলেন,বাচ্চাটিকে দুগ্ধপোষ্য হিসেবে জানতে পেরেছি। তাই সে মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকবে।

প্রসঙ্গত:

দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের আঙিনায় ‘টম’ নামের একটি কুকুর থাকে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সে ৮টি বাচ্চা প্রসব করে। গত সোমবার সকাল থেকে ছানাগুলো দেখা না গেলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে দেখা যায় মা কুকুরকে।

পরে উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মচারী জানতে পারেন, কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি রহমান বস্তায় ভরে ছানাগুলোকে পুকুরে ডুবিয়ে মেরে ফেলেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার রাতে। সোমবার সকালে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় ছানাগুলোর মরদেহ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে নিশি রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ তাকে ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

তবে ইতোমধ্যে মায়ের সাথে দুই বছরের বাচ্চা জেলে থাকার তথ্য প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে । কেউ কেউ লিখছেন অপরাধ হয়েছে—সেটির আইনি পরিণতি হবে। কিন্তু একটি নির্দোষ শিশুর উপর যেন সামাজিক, মানসিক চাপ না পড়ে—মানবিক সমাজ হিসেবে এ দায়িত্ব আমাদেরই।

অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে; কিন্তু আমরা চাই সমাজে সচেতনতা ও মনোভাবের পরিবর্তন আসুক। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শাস্তির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বদলে দ্রুত আর্থিক দণ্ড প্রদানের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করা হোক।’’

 

 

 


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!