ঢাকারবিবার , ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদীতে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের ভোট চাইলেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল

হাবিবুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক
ডিসেম্বর ৭, ২০২৫ ১২:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার ঈশ্বরদীতে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের ভোট চেয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক। শুক্রবার (০৫ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার চররূপপুর এলাকায় বিএনপির চেয়ার্পারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে ওই শিক্ষক বক্তব্য দেওয়ার সময় ঘটে এমন কান্ড। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সিরাজুল ইসলাম ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়ম আড়াল করতে ৫ই আগস্টের আগে সিরাজুল ইসলাম আঃলীগের নেতাকর্মীদের সান্নিধ্যে চলতেন। সরকার পতনের পর হঠাৎ বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। রীতিমতো সভা-সমাবেশ ও মিছিল মিটিংয়েও যোগদান করে বক্তব্যও করতে দেখা গেছে তাকে।

শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ওই দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় না থেকেই যে উন্নয়ন করছে, ক্ষমতায় আসলে আরো বেশি উন্নয়ন করতে পারবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছিলেন। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫% ইনক্রিমেন্ট চালু করেছিলেন। আগামীতে যদি ধানের শীষ কে নির্বাচিত করেন তাহলে আরো বেশি উন্নয়ন হবে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন বেগম খালেদা জিয়ার যেন আবার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ধানের শীষের বিজয় অর্জনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে, এই আশা ব্যক্ত করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি, জয় বাংলা।
এসময় জয় বাংলা শ্লোগান শুনে সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হেসে ওঠেন।একজন প্রধান শিক্ষকের সরাসরি রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ এবং দলীয় ভোট চাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে শাস্তির দাবিও করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে লক্ষীকুন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল বলেন, আমি রাজনীতি করি না, পূর্বেও কখনো করিনি। শিক্ষক হিসেবে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গিয়ে একটি দলের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। আর জয়বাংলা ভুলে বলে ফেলেছি। এজন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃক্ষিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন। এ বিষয়ে তিনি জানান, স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিলো। এটি দলীয় আয়োজন ছিলো না। সিরাজুল ইসলাম বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা বলে ফেলেছেন এবং তাৎক্ষণিক ক্ষমাও চেয়েছেন। যেহেতু তিনি শিক্ষক। আমাদের দলের কেউ না, তাই এ বিষয়ে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিল সুপারভাইজার আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। সিরাজুল ইসলামের বক্তৃতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আর ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে রাজনৈতিক কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বক্তৃতা করার সুযোগ নেই।

দোয়া মাহফিলে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পাবনা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক, ঈশ্বরদী উপজেলা জাসাসের সাবেক সভাপতি নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক তানভীর হাসান সুমন।
পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, হাফেজ মাওলানা শরিফুল ইসলাম।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!