নাটোরের লালপুরে উপজেলা ভূমি অফিসে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ চুরি করেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এঘটনার পর থেকে উপজেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চুরির আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জুলহাজ হোসেন সৌরভ বলেন, শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পূর্ব মুহূর্তে চোর চক্রের সদস্যরা দুইটি কম্পিউটারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করেছে। সন্ধ্যায় বিষয়টি নজরে আসলে ঐদিন রাতেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তিনি আরও বলেন সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় কম্পিউটার থেকে তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা নাই বলে জানিয়েছেন ইউএনও। সম্প্রতি উপজেলায় চুরির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গ্রাম পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে সচেতন করতে মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি -তদন্ত) এস. এম. রিয়াজুল হাসান জানান, চুরি রোধে নৈশকালীন পাহারা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরচক্রের সদস্যদের ধরতে ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, একই দিন (৫ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ৬টি বাড়িতে চুরির চেষ্টা করে চোরচক্রের সদস্যরা। তবে বাড়ির লোকজন জেগে ওঠায় তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি একই গ্রামের মৃত বারিক সরকারের ছেলে ঝন্টু সরকারের। সেদিন রাতে তার বাড়ি থেকে চার্জার ভ্যান চুরি করে চোর চক্রের সদস্যরা। গত ছয় মাসে এই গ্রাম থেকে সাতটি ভ্যান চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এর আগে ৩ ডিসেম্বর উপজেলার লালপুর – বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের মঞ্জিলপুকুর এলাকায় আব্দুল মান্নান নামের এক সবজি বিক্রেতাকে ছুরিকাঘাত করে তার টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ নভেম্বর লালপুর হল মার্কেট এলাকায় স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের শিকার হন এক নারী। ১১ নভেম্বর লালপুর থানার গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয় থানায় কর্মরত বাবুর্চি মোঃ আমিরুল ইসলাম পারভেজের। এছাড়া গত সাত মাসে উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩৪ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৬ লাখ টাকা।
