আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের ফলে পাবনা-১ সংসদীয় আসনটি তার পূর্বের ঐতিহ্যগত সীমানায় পুনর্বহাল হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে পাবনা-১ আসনকে শুধুমাত্র সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে এবং পাবনা-২ আসনকে বেড়া ও সুজানগর উপজেলা নিয়ে পুনর্নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। এই নতুন বিন্যাসে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার আংশিক এলাকা বিচ্ছিন্ন করা হলে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয় স্থানীয়দের মধ্যে।
ঐতিহ্যগতভাবে পাবনা-১ আসনটি সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। নতুন গেজেটকে স্থানীয় ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সামাজিক কাঠামোর পরিপন্থী উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির ডাকে বেড়া উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। আন্দোলন চলাকালে সিএনজি ভাঙচুরসহ বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। এসব কর্মসূচি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসির নতুন গেজেট স্থানীয় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন (নম্বর–১৫৫৩৭/২০২৫) দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত ইসির গেজেটকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়—পাবনা-১ আসনকে সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার আংশিক এলাকা এবং পাবনা-২ আসনকে পূর্বের সীমানা অনুযায়ী বহাল রাখতে হবে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত নির্বাচনি এলাকার তালিকা সংশোধন করে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের এই রায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাবনার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন সীমানার পক্ষে থাকা মহলের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হলেও, পুরনো সীমানায় নির্বাচন প্রত্যাশীদের মধ্যে স্বস্তির প্রতিফলন ঘটেছে।
এদিকে জানা গেছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মোট ১৪টি রিট পিটিশনের রায়ের জন্য নির্বাচন কমিশন অপেক্ষা করছিল। পাবনা-১ আসনের এই রায় অন্যান্য বিতর্কিত আসনের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
হাইকোর্টের রায়ের পর এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধিত নির্বাচনি এলাকা তালিকা প্রকাশ করা।
