দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুরু হওয়া জানাজায় লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জনসমুদ্র এতটাই বিশাল ছিল যে মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর রোড, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
জানাজার আগেই মানুষ শীত উপেক্ষা করে রাতভর মানিক মিয়া এভিনিউ, দলীয় কার্যালয় ও এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থান নিয়েছিলেন। জানাজা চলাকালে মানুষের চোখে জল, হাত তুলে নীরবে দোয়া এবং কান্নার মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী হাজী আবদুল লতিফ বলেন, “৪৪ বছর পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার মতো দৃশ্য আবার চোখের সামনে দেখলাম। এই ভালোবাসা আল্লাহ প্রদত্ত।
জানাজায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আবেগঘন বক্তৃতা দেন। তারেক রহমানও মায়ের জন্য সকলের দোয়া চান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ ঢাকাস্থ ৩২টি দেশের কূটনীতিক।
নারীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো ছিল। মূল জানাজাস্থলে নারীদের প্রবেশ সীমিত থাকলেও আশপাশের নিরাপদ দূরত্বে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানান। অনেকের হাতে কালো ব্যাজ, মুখে শোকের ছায়া।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় ঘটনা, যা প্রমাণ করে যে ক্ষমতার বাইরে থেকেও একজন নেতা গণমানুষের মনে স্থায়ী জায়গা রাখতে পারেন।
