চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এক সন্ত্রাসীচক্র। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত মোঃ মাছুম (৫৩) ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যবসায়ী মোঃ আশরাফুর রহমান বাধন (৩৮) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
অস্ত্রের মুখে মৃত্যুর হুমকি, অতর্কিত হামলা বাধনের বাবা মোঃ আকতারুজ্জামান ঝন্টু জানান, ৩১ মে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে গাদাপট্টি এলাকায় নিজের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাধন। এ সময় মাছুম ও অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন সহযোগী অস্ত্রসহ এসে তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। বাধন প্রতিবাদ করলে মাছুম পিস্তল বের করে তার ঘাড়ে ঠেকিয়ে বলে, “শালা বাধনকে জীবনের মতো শেষ করে দে।” এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে ডান চোখের নিচে গভীর জখম হয়। বাঁচার চেষ্টা করলে দ্বিতীয় কোপ বাধনের বাঁ হাতে লাগে, সেখানেও গুরুতর রক্তাক্ত ক্ষত হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় বাধনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
চাঁদাবাজির প্রতিবাদে হামলা, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, মাছুম ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ছিনতাই, হুমকি ও হামলা তাদের নিত্যকার কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
গত ২ জুন এলাকাবাসী এক প্রতিবাদ মিছিলের উদ্যোগ নিলেও মাছুম বাহিনীর হুমকির কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, “মাছুমের নাম শুনলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। সে ও তার পরিবার মাদক কারবারে জড়িত—এটা ওপেন সিক্রেট।”
মাদক চক্রের ছায়ায় ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’:
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাছুম পরিবার বহু বছর ধরে হেরোইন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আগে বহু অভিযোগ উঠলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কেউই বিচারের আওতায় আসেনি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি: ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলেও মাছুম বাহিনীর দাপট কমেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনই ব্যবস্থা না নিলে, এই এলাকায় নিরাপদে বাঁচা সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
