ঢাকাসোমবার , ১ ডিসেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদীতে ৮ টি কুকুরের বাচ্চা বস্তায় বেধে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

হাবিবুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক
ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি জীবিত কুকুরের ছানাকে বস্তাবন্দি করে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়েই শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা৷ তবে নিজেকে বাচাতে স্ত্রীর উপর দোষারোপ করলেন অভিযুক্ত হাসানুর রহমান নয়ন৷ আর ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

রবিবার (৩০ নভেম্বর)  রাতে কোনো এক সময় এ হত্যাকান্ড করা হলে সোমবার (০১ ডিসেম্বর) সকালে ছানাগুলোর মরদেহ পাওয়া যায়৷

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাটিতে পড়ে আছে ৮ টি সন্তানের নিথর দেহ। তাইতো কান্নায় আহাজারিতে পাগলপ্রায় মা কুকুর৷ অসহায় হয়ে করছে আর্তনাত।

কারণ ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন ও তার স্ত্রী জীবন্ত আটটি প্রান বস্তায় বেধে হত্যার উদ্দেশ্য ফেলে দেন পুকুরে৷ একদিন পর পাওয়া যায় মরদেহ৷ এটা শুধু হত্যা নয়। নির্ঘাত গনহত্যা। এ চিত্র পাবনার  ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সামনের৷

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের একটি কোনে থাকতেন এই কুকুর। কুকুরটি বিশ্বস্থ হওয়ায় মানুষজন তাকে খুব ভালবাসতেন। নাম দিয়েছিলেন টম৷

গত এক সপ্তাহ খানিক আগে টম আটটি বাচ্চা প্রসব করেন৷

ভালই চলছিলো তাদের ফুটফুটে বাচ্চাদের নিয়ে পথচলা৷ কিন্ত হঠাৎ করেই কালো রাতের শাক্ষী হতে হলো মা কুকুরকে। হঠাৎই রবিবার সকাল থেকে পাগলপ্রায় অবস্থায় কান্না আর ছুটাছুটি করতে দেখা যায় মা কুকুরকে। পরে খোজ নিয়ে জানা যায় তার বাচ্চাদের না পেয়ে এমন হতাশার মধ্যে ছুটাছুটি করছেন।

এদিকে বাচ্চাগুলো না পেয়ে খোজাখুজি শুরু করেন উপজেলা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা৷ পরে জানতে পারেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী মিলে বস্তাবন্দি করে আটটি কুকুরের বাচ্চা পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

দ্রুত অভিযুক্তদের বিচারের দাবী সবার।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর হোসেন রনি নামের একজন বলেন, নিঃসন্দেহে যে কুকুরছানা গুলোকে হত্যা করা হয়েছে এটি গণহত্যার শামিল। যে নিরীহ পশুকে হত্যা করতে পারে সে মানুষকেও ফোন করতে পারে। জীবিত কুকুরছনাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু দাবি জানান তিনি।

এদিকে নিজেকে বাচাতে সব দোষ স্ত্রীর উপরে দিলেন অভিযুক্ত হাসানুর রহমান নয়ন৷ তিনি বলেন, আমি এ হত্যাকাণ্ড করিনি। আমার স্ত্রী এই কাজ করেছেন। আমি ঘটনার খবর জানতে পেরে স্ত্রীকে অনেক বকাবকি করেছি।

এসব বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ঘটনা আমি শুনেছি, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ ইতিমধ্যে সোমবার দুপুরে কুকুরের বাচ্চাগুলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পাশে মাটির নিচে পুতে রেখেছেন উপজেলা অফিসের কর্মচারীরা৷

 

 


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!