পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার সাবডাঙ্গা গ্রামে ছেলে ধরা সন্দেহে সালাউদ্দিন(৫২) নামের এক ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন । আটককৃত সালাউদ্দিন দাউদকান্দি উপজেলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
রোববার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের সাবডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদ-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব রতন মোল্লা।
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, সাবডাঙ্গা গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম তার দুই বছরের ছেলে রাইয়ান এবং তার বোন আতিয়া খাতুনের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আব্দুল আজিজকে বাড়িতে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সংসারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় সন্দেহভাজন সালাউদ্দিন কৌশলে বাড়ির গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা আরেক শিশু চিৎকার করে উঠলে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে এবং তাকে আটক করেন।
পরে এলাকাবাসী সালাউদ্দিনকে গাছে বেঁধে গণপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন।
শিশু রাইয়ানের বাবা জিয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি ও পরিবারের সদস্যরা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ শিশুদের কান্নার শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি এক ব্যক্তি আমার সন্তান রাইয়ান ও ভাগ্নে আব্দুল আজিজকে কোলে নিয়ে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পরে আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুদের উদ্ধার করে এবং ওই ব্যক্তিকে আটক করে। এ ঘটনায় আমরা খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। এমনকি শিক্ষকরাও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি, যাতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।”
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়েছে।
আটঘরিয়া পাবনা
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
