পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত বাজারে শতবর্ষী একটি নিমগাছ টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে হেলে পড়ে একাধিক দোকানঘরের ওপর ঝুঁকে রয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা। দ্রুত গাছটি অপসারণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশাল আকৃতির নিমগাছটি ডাক্তার মোজাম্মেলের দোকানঘরের ওপর হেলে রয়েছে। গাছের চাপে দোকানটির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শফিকুল, বিদ্যুৎ, রাম, লক্ষণ, আতিক ও মৃত মোহাম্মদ আলীর দোকানসহ আশপাশের আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
দোকান মালিক ডাক্তার মোজাম্মেল বলেন, “টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গাছটি আমার দোকানের ওপর হেলে পড়েছে। এতে দোকানের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, একদন্ত বাজারটি আটঘরিয়া উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত বাজার। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। বিশেষ করে হাটের দিন বাজারে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। এ অবস্থায় গাছটি ভেঙে পড়লে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত গাছটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একদন্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল সরদার বলেন, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করা হয়েছে।
আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাহমিদুল ইসলাম বলেন, “একদন্ত বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ নিমগাছের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।”
এদিকে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, বিলম্ব হলে জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।