ঢাকামঙ্গলবার , ১৪ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্যালয়ের জমি দখলচেষ্টা ও মসজিদের ওযুখানা ভাঙচুরের অভিযোগ; মুন্সী পরিবারের দাবি অভিযোগ ভিত্তিহীন

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা:
জুলাই ১৪, ২০২৬ ৯:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুরে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দখলচেষ্টা, বিদ্যালয়-সংলগ্ন মসজিদের ওযুখানা ভাঙচুর এবং ড্রেনের মাধ্যমে নোংরা পানি বিদ্যালয়-সংলগ্ন পুকুরে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাশিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী মুন্সী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুন্সী পরিবারের দাবি, তারা জমির সীমানা নির্ধারণের পক্ষেই রয়েছেন এবং মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মুন্সীর দান করা জমিতে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন কিছু জমি রয়েছে। সম্প্রতি ওই জমিতে কোনো ধরনের সরকারি মাপঝোঁক ছাড়াই মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে বিদ্যালয়ের জমি দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৬ ও ৭ জুলাই বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন মসজিদের ওযুখানার টিনশেড ভেঙে ফেলা হয় এবং পরে মসজিদের সীমানা প্রাচীর ভাঙারও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে কাজ স্থগিত করা হয়।

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মাঠের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে গৃহস্থালি ও মার্কেটের নোংরা পানি গোটেংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন পুকুরে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, “কোনো মাপঝোঁক ছাড়াই বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন স্থানে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য আমরা ইউএনও বরাবর আবেদন করেছি। বিদ্যালয়ের মসজিদ সম্পর্কেও আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ওযুখানা ভেঙে ফেলা আইনসঙ্গত নয়।”

মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী কয়েকজন মুসল্লি অভিযোগ করে বলেন, “ওযুখানা ভেঙে দেওয়ায় বৃষ্টির মধ্যে কষ্ট করে ওযু করতে হচ্ছে। এতে মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়েছেন।”

গোটেংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, পুকুরের পানিতে নোংরা পানি মিশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

অভিযোগের বিষয়ে মুন্সী পরিবারের একজন প্রতিনিধি বলেন, “আমরাও চাই সরকারি মাপঝোঁকের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণ হোক। আমরা ওযুখানা ভাঙিনি। মসজিদ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিজেদের অর্থায়নে কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ওযুখানাটি অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ করছিলাম। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগে জানানো উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, “বিদ্যালয়ের জমি মাপার জন্য আবেদন পেয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মসজিদের ওযুখানা ভাঙচুরের বিষয়টিও শুনেছি। তবে কারা এ কাজ করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিদ্যালয় বা মুসল্লিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবুও বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিদ্যালয়ের জমির সীমানা নির্ধারণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!