ঢাকামঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: স্পিডবোটে গুলিবিদ্ধ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
জুন ৯, ২০২৬ ৬:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে একটি স্পিডবোট থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মো. আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহীর বাঘা ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে রাজশাহীর বাঘা থানার হবির চর এলাকায় বেলাল ও কাকন গ্রুপের মধ্যে বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে লালপুর উপজেলার চরজাজিরা পদ্মা নদীর তীর থেকে একটি স্পিডবোটসহ রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হবির চর থেকে শুরু করে লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে দিনভর অভিযান ও অনুসন্ধান চালান। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিহত আজিজুল হক ঝড়ুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আজিজুল হক ঝড়ু নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখ ও হাসিনা বেগমের ছেলে। তিনি কাকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বালুমহলে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, নিহতের বাম চোখের উপরের অংশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। তাকে স্পিডবোটের ভেতরে রক্তাক্ত মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে সবুজ-নীল রঙের একটি স্পিডবোটও জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) খন্দকার শফিকুল ইসলাম, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসান।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত আজিজুল হক ঝড়ু চারঘাট এলাকার জনৈক কাকনের বালুর পয়েন্টে কাজ করতেন। বাঘা উপজেলার বেলাল গ্রুপের সঙ্গে বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!