মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাবনা শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক বিতর্কিত ঘটনার জেরে পাবনায় বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করেছে বিএনপি।
২৬ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, বার সমিতির সাবেক সভাপতি এড. মাকসুদুর রহমান মাসুদ তার বক্তব্যে বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধের ময়দানে অংশ নেননি, বরং তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা তিনি দেননি, বরং জীবনের ঝুকি নিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ৯ মাস রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন।”

তার বক্তব্য চলাকালে দর্শকসারীতে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবাদ জানিয়ে “ভুয়া, ভুয়া” বলে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন যে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন এবং তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় বিতর্কিত। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদল আয়োজোনে শহরের হামিদ রোড জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে এক পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগপন্থী কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। বিএনপি নেতারা দাবি করেন, “যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের সনদ ও ভাতা বাতিল করতে হবে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
বিক্ষোভ ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এড. মাসুদ খন্দকার, জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, তবে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ভিন্নমতকে কেন্দ্র করে পাবনায় উত্তেজনার যে সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপি নেতারা প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি পেশ করলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা পলাতক থাকায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করবে এবং আগামীদিনে পাবনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
