ঢাকামঙ্গলবার , ৬ মে ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডা. জোবায়দা রহমান: ঐতিহ্য, মেধা ও মানবসেবার অনন্য প্রতীক

জুবায়ের খান প্রিন্স , পাবনা:
মে ৬, ২০২৫ ২:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

  • বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘তারেক রহমানের স্ত্রী’ পরিচয়ে পরিচিত হলেও ডা. জোবায়দা রহমান নিজস্ব গুণ ও প্রতিভায় বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি শুধু জিয়া পরিবারের পুত্রবধূ নন, একাধারে একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক, প্রশাসনের সদস্য, সমাজসেবী পরিবারের উত্তরসূরি ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত এক চিকিৎসাবিদ। তার পারিবারিক, শিক্ষা ও পেশাগত পরিচয় জানলে অবাক হতে হয়।

শিক্ষাজীবন ও পেশাগত সাফল্য:

ডা. জোবায়দা রহমান লন্ডনের বিশ্ববিখ্যাত Imperial College London থেকে মেডিসিনে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর কৃতিত্ব এখানেই থেমে থাকেনি—তিনি রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
১৯৯৫ সালে চিকিৎসকদের জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারী চিকিৎসক হিসেবে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে যোগ দেন।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার:

সিলেটের সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া ডা. জোবায়দার পরিচয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে নয়, বরং তিনি এক বিশাল ঐতিহ্যবাহী ও অবদানে পরিপূর্ণ পরিবারের উত্তরসূরি।

স্বামী: তারেক রহমান, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।

শ্বশুর: লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি।

শাশুড়ি: বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন।

জন্মপরিবারের গৌরবগাথা:

পিতা: রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং মন্ত্রী।

মাতা: সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু, সমাজসেবায় স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত। তিনি বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামে ৩০ লক্ষ দরিদ্র শিশুকে শিক্ষা ও সহায়তার আওতায় এনেছেন। বর্তমানে ‘সুরভি’র চেয়ারপার্সন ও মহিলা সংস্থার সাবেক চেয়ারপার্সন।

ঐতিহাসিক পারিবারিক শিকড়:

দাদা: আহমেদ আলী খান—ভারতবর্ষের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টারদের একজন, আসাম কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট এবং হায়দ্রাবাদ নিজামের প্রধান আইন উপদেষ্টা।

দাদী: জুবাইদা খাতুন—খান বাহাদুর ওয়াসি উদ্দিন আহমেদের কন্যা।

প্রপিতামহ: ডা. খান বাহাদুর আজদার আলী খান—বিহার ও আসামের মেডিকেল শিক্ষার অন্যতম পথপ্রদর্শক, পাটনা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক।

চাচা-১: জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।

চাচা-২: আজমল আলী—অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রভাবশালী মন্ত্রী।

চাচা-৩: ডা. সেকেন্দার আলী খান—চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

চাচাতো বোন: আইরিন খান—অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব, মানবাধিকার আন্দোলনের আন্তর্জাতিক নেতা।

একজন নারী, বহু পরিচয়:

ডা. জোবায়দা রহমান নিছক একজন রাজনীতিক পরিবারের সদস্য নন—তিনি একাধারে চিকিৎসক, প্রশাসক ও সমাজসেবায় উৎসর্গীকৃত নারী। তার ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য এবং পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্মানিত ও আলোচিত নারী নেত্রীতে পরিণত করেছে।

তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকেও গড়ে তুলেছেন দেশবরেণ্য হিসেবে। সেই গুণী নারী ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন স্বগৌরবে। নেতৃত্ব দেবেন রাজনৈতিক পরিচয়ে।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!