পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ভূমিদস্যুদের দাপটে নিজ ক্রয়কৃত বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আক্কাস আলী। স্থানীয় একটি চিহ্নিত চক্র ফ্যাসিস্ট সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ভয়ভীতি ও নানান কূটকৌশলের মাধ্যমে তার বাড়ি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আক্কাস আলী জানান, তিনি ২০০৮ সালে চাটমোহর পৌর এলাকার দোলোং মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১৪৩ এর দাগ নং ৪২১ এর আওতায় আরএস খতিয়ান নং ১৮৩ এর দাগ নং ৫৪৩ এর আওতায় ৪৮ শতাংশ জমির কাতে চার শতাংশ জমি আধাপাকা ঘরসহ আব্দুল বাতেনের কাছ থেকে বৈধভাবে ক্রয় করেন। এরপর নিয়মিত খারিজ, খাজনা, পৌরকর, নিজ নামের মিটারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও আংশিক ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন।
তবে সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি ঢাকায় কর্মরত থাকায় বাড়িটি বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকতো এবং কেয়ারটেকার দেখভাল করতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০১৭ সালে এলাকার আলোচিত ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অছিমুদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে রাতে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র সহ দখল নেন। পরবর্তীতে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে পাবনা জজকোর্টে রেকর্ড সংশোধনের মামলা দায়ের করেন তিনি।
সূত্র জানায়, আদালতের বিচারক যখন অছিমুদ্দিনের উপস্থাপিত দলিলের অসারতা বুঝতে পারেন এবং মামলার রায় ভুক্তভোগীর পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন কৌশলী অছিমুদ্দিন নিজেই মামলা প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে তিনি আবারও ভুয়া দলিল তৈরি করে বারবার নতুন নতুন মামলা দায়ের করেন, যা এখনও বিচারাধীন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অছিমুদ্দিনের বাড়িতে গেলে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ১৯৭৬ সালে জমিটি ক্রয় করেছেন এবং তিনি নিজেও নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা অন্যভাবে ওই জমি ক্রয় করেছেন। মামলা প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, পূর্বের দলিলে ভুল থাকায় তা প্রত্যাহার করে সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুনভাবে মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রহস্যজনকভাবে একই জমি, একই দাগ ও খতিয়ানে একদিকে আক্কাস আলীকে নাম খারিজ করে দেওয়া হলেও অন্যদিকে অছিমুদ্দিনকেও একই জমির খারিজ দেওয়া হয়েছে, যা ভুমি অফিসের অসঙ্গতির বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আক্কাস আলীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্যোগে ২০১৭ সালে দুই পক্ষের সম্মতিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারা উভয় পক্ষের দলিলাদি যাচাই-বাছাই শেষে যে প্রতিবেদন দেন, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, অছিমুদ্দিনের উপস্থাপিত দলিলপত্র আদালত ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কোনো অস্তিত্ব নেই; এগুলো সম্পূর্ণভাবে ভুয়া ও কাল্পনিক। পক্ষান্তরে আক্কাস আলীর বৈধ দলিলপত্র যাচাইয়ে সঠিক ও বৈধ বলে প্রমাণিত হয়।
সব আইনগত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অছিমুদ্দিনের প্রভাব ও সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না অসহায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আক্কাস আলী। তিনি বলেন, “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন হয়রানির শিকার হবো, ভাবিনি। এখন নিজের বাড়ি ফিরে পেতে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি দখলের এই ধারা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
