ঢাকারবিবার , ২৪ আগস্ট ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাবনায় সংবাদ সম্মেলনে মেরিনার্স গ্রুপের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা:
আগস্ট ২৪, ২০২৫ ৪:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার একটি সুপরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অর্থপাচার, ফ্যাক্টরি দখল, মালামাল লুণ্ঠন এবং হত্যা চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানেরই প্রভাবশালী এক চক্রের বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মেরিনার্স ফুড অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেড এসব অভিযোগ উত্থাপন করে এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ, চিফ এডমিন আসিফ আহমেদ ও ম্যানেজার মিজানুর রহমান সহ মালিক পক্ষের একটি গ্রুপের অভিযোগ অনুযায়ী, মাসুদ রানা, হারুন খান, মিলন খান ও ফজলুল করিম গং দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এরা ফ্যাক্টরি দখল, মালামাল লুট, কর্মচারীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ করেছে কোম্পানির লেনদেন নিজ একাউন্টে পরিচালনা করা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয় উঠে এসেছে।

ফ্যাক্টরি মাসুদ রানার নিজ এলাকায় হওয়ায় চক্রটি নিয়মিত চাঁদা দাবি করত বলে জানায় তারা। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিত। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন দুই পক্ষের সমন্বিত তদন্তে প্রমাণ মেলে, কোম্পানির ব্যবস্থাপক হারুন খানের ব্যাংক হিসাবে কোম্পানির এক কোটি তের লক্ষ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। রানার বিরুদ্ধে কোম্পানির চেকবই চুরি করে ৪ কোটি টাকার ভুয়া মামলা করার অভিযোগ আনা হয়।

৯ মে ২০২৪: ফ্যাক্টরি ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেনের ওপর হামলা (জিডি নং ৫৬০)।

৫ আগস্ট ২০২৪: হেড অফিসের তিন অডিট অফিসারকে আটক করে নির্যাতন, পরে পুলিশ উদ্ধার করে (মামলা নং ০৮)।

১০ আগস্ট ২০২৪: অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে হত্যাচেষ্টা।

প্রায় ৪০ কোটি টাকার মালামাল জবরদখল করে ফ্যাক্টরি দখলে রাখছে চক্রটি। কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এতে প্রায় ৫০০ কর্মীর কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চক্রটি মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেরিনার্স ফুড অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমেদ বলেনঃ
১. অভিযুক্ত চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
২. লুট হওয়া ফ্যাক্টরির মালামাল ফেরত প্রদান।
৩. সব ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ।
৪. স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত বিচার প্রক্রিয়া।
৫. কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

মেরিনার্স গ্রুপের অবস্থান:

২০১৯ সালে ৭০ জন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে শামীম আহমেদ আরও বলেন—”আমরা অন্যায় ও সন্ত্রাসের কাছে নতি স্বীকার করব না। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!