জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সুবির কুমার দাশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেই নয়, বরং একজন জনদরদি ব্যক্তিত্ব হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে নাটোর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ঈশ্বরদীতে দায়িত্বকাল:
ইউএনও সুবির কুমার দাশ ঈশ্বরদীতে যোগদানের পর থেকেই নিজেকে জনসেবার মাঠে সক্রিয় রাখেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি সেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে surprise visit, সন্ত্রাস ও নাশকতা দমনে দৃঢ় অবস্থান—এসব উদ্যোগ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে।
মানুষের কাছে আপনজন:
ঈশ্বরদীর সাধারণ মানুষ মনে করেন, সুবির কুমার দাশ ছিলেন একজন সদালাপী ও সহজ-প্রাপ্য কর্মকর্তা। গ্রামীণ জনপদে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলাপ, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা অসহায়দের অভিযোগ শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া—এসব কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ঈশ্বরদীবাসীর আপনজন।
একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “আমরা অনেক ইউএনও দেখেছি, কিন্তু সুবির কুমার দাশের মতো মানুষের কাছে ঘনিষ্ঠ হওয়ার উদাহরণ খুব কমই আছে। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সন্তানদের শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে যত্নবান ছিলেন।”
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান:
তাঁর সময়কালে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের গতি পায়। বিশেষ করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাঁর কার্যকরী পদক্ষেপ ঈশ্বরদীতে প্রশংসিত হয়।
বিদায়ের আবেগ:
তাঁর পদোন্নতি ও বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় মানুষের আবেগে মিশে আছে আক্ষেপও। ঈশ্বরদীর একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা গর্বিত যে উনি পদোন্নতি পেয়েছেন, কিন্তু একই সঙ্গে কষ্টও হচ্ছে যে, আমাদের প্রিয় ইউএনও আর থাকছেন না।”
নতুন দায়িত্ব, নতুন প্রত্যাশা:
এবার সুবির কুমার দাশ নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করছেন। ঈশ্বরদীর অভিজ্ঞতা ও কাজের সাফল্য তাঁকে নতুন জায়গায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে বলে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
