ঢাকাসোমবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টায় অধ্যক্ষ মজিবর রহমান

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা :
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ৪:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর যখন দলটির মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়ে আছেন, ঠিক সেই সময়েও দলকে সংগঠিত করা ও পুনর্বাসনের চেষ্টায় সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক এবং মিয়াপুর হাজী জসিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে।

ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ মজিবর রহমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, পুরাতন ভবন বিক্রি ও কলেজের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করার মতো কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। এমনকি ভাতিজাকে জোরপূর্বক চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পাবনা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ মজিবর রহমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি শেখ হাসিনার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং আওয়ামীলীগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যক্ষ মজিবর রহমানের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ক্রমশ নিম্নমুখী হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত টিম তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে।

ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অন্য নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও অধ্যক্ষ মজিবর রহমান এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসকের নিকট প্রদত্ত আবেদনে অধ্যক্ষ মজিবর রহমানকে অব্যাহতি প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করা যায়। আবেদনপত্রটি ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!