হারবাল ওষুধের প্রচার ও প্রেসক্রিপশন নিষিদ্ধ; রোগীদের চরম ভোগান্তি
ঔষধ প্রশাসনের সাথে বিরোধের জের ধরে পাবনা জেলায় সব ফার্মেসি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে জেলার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে পড়ছেন।
ঔষধ প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হারবাল ওষুধের প্রচার, বিপণন ও চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম ভঙ্গ করলে ডাক্তার ও ব্যবসায়ী উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ফার্মেসি মালিকদের অভিযোগ— “ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে হারবাল ওষুধ লিখলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, অথচ ফার্মেসিতে এসব ওষুধ রাখলেই ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। এটি দ্বৈত নীতি।”
সূত্র জানায়, সম্প্রতি ড্রাগ সুপার তার অফিসিয়াল টিম নিয়ে হঠাৎ অভিযানে নামেন। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ড্রাগ লাইসেন্স, ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি, ওষুধের মান ও সংরক্ষণ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। অভিযানকালে একাধিক দোকানে অনিয়ম ধরা পড়লে জরিমানা করা হয়। তবে এই অভিযানে ড্রাগ সমিতির সাথে কোনো সমন্বয় না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফার্মেসি মালিকরা অবরোধ ও অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন।
পাবনা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের রোগী মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“ওষুধ ছাড়া রোগীরা তো একদিনও চলতে পারে না। ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন, কিন্তু ফার্মেসি বন্ধ থাকায় আমরা ওষুধ পাচ্ছি না। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা।”
এ বিষয়ে জেলা ড্রাগ সুপার জানান,“আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অননুমোদিত হারবাল ওষুধ রাখা বা প্রেসক্রিপশন দেওয়ার নিয়ম নেই। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বাড়তে থাকলে এর মূল খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
