পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গী গ্রামে নামাজরত অবস্থায় পিতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত ছেলে।
শনিবার (২ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিক (২০)–কে আটক করেছে। নিহত নিজাম প্রামাণিক (৬০) ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নিজাম প্রামাণিক পেশায় কৃষক। প্রতিদিনের মতো শনিবার সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় নতুন বাজারে দুধ বিক্রি করে বাড়ি ফেরেন। খাওয়া–দাওয়ার পর এশার নামাজে দাঁড়ান। এমন সময় তার ছোট ছেলে মোস্তফা ঘরের দরজা বন্ধ করে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাতারি কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিজামের মৃত্যু হয়।
চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলেও পারেননি। কিছু সময় পর তারা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বাবার নিথর দেহ দেখতে পান। এরপর অভিযুক্ত মোস্তফাকে ঘরের ভিতর আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়। এ সময় মোস্তফার ছুরিকাঘাতে সদর থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিক, এসআই জিয়াউর রহমান ও এসআই আবু রায়হান আহত হন। তাদের মধ্যে এসআই জিয়াউর রহমানকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, “আমার বাবাকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে। আগে আমাকে মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল সে। নেশার টাকা না পেলে বাড়িতে ভাঙচুর করত।”
নিহতের মেয়ে জানান, “মোস্তফা মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে অস্থির ছিল। আমরা তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। দুই মাস পর ছাড়া পেয়ে আবার নেশা শুরু করে। আজকের ঘটনার মূল কারণ সে রাগ করেছে—কেন তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তাদের চিকিৎসা চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
