“আলোকিত মানুষ দ্বারা আলোকিত আটঘরিয়া গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাবনার আটঘরিয়ায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে উপজেলার জাওয়াদ পল্লী, বাওইখোলা, চাঁদভায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী ও সুধীজনদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আটঘরিয়া উপজেলা পেশাজীবী কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত মেধাবী শিক্ষার্থী, বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কৃতী ব্যক্তিদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শফিকুল ইসলামএবংবিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন , মো: আসাদুজ্জামান, মহাপরিচালক, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।
প্রফেসর , মোঃ নাজমুল হক, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বাংলাদেশ ঢাকা । আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার
সভাপতিত্ব করেন।মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সভাপতি, আটঘরিয়া উপজেলা পেশাজীবী কল্যাণ পরিষদ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণ প্রজন্ম। তাদের সাফল্যকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজ গঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে উৎসাহিত হবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “জ্ঞান, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”
বিশেষ অতিথিরাও তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রফেসর মোঃ মাহবুব হাসান, সম্পাদক, আটঘরিয়া উপজেলা পেশাজীবী কল্যাণ পরিষদ এবং কলেজ পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী। তিনি বলেন, “আটঘরিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থী ও কৃতী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থী ও নবনিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পরে সদস্য সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণ্যমান্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, আত্মবিশ্বাস ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
