ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আটঘরিয়ায় লাম্পি স্কিন ডিজিজের প্রাদুর্ভাব, উদ্বিগ্ন খামারিরা

ফজলুর রহমান খান, আটঘরিয়া (পাবনা) : :
জুন ৪, ২০২৬ ৮:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। 
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরুর শরীরে গুটি, জ্বর, দুর্বলতা ও খাবারে অরুচির মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় অনেক খামারি দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি খামারিদের মধ্যে রোগটির বিস্তার এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয়। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে শক্ত ও গোলাকার গুটি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, খাবারে অরুচি, ওজন হ্রাস, শারীরিক দুর্বলতা এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ফলে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অনেক খামারি আক্রান্ত গবাদিপশুকে আলাদা রেখে চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করছেন। কেউ কেউ খামারে জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন, আবার অনেকেই মশা-মাছির উপদ্রব কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে রোগটির সংক্রমণ নিয়ে এখনও উদ্বেগ কাটেনি।
খামারিরা জানান, গবাদিপশু তাদের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে শুধু চিকিৎসা ব্যয়ই নয়, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই রোগটি নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত।
স্থানীয় খামারিদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মশা-মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। এসব পোকামাকড়ের মাধ্যমে লাম্পি রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য তারা খামারের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং আক্রান্ত পশুকে পৃথক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, “লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে মানসম্মত ভ্যাকসিন ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট বাছুরগুলোকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণে রাখলে রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এ রোগের  লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই খামারিদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।”

শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!