পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটার মৌসুম। প্রখর রোদ, তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন কৃষকেরা। সময়মতো পাট কেটে জাগ না দিলে আঁশের মান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় কষ্টকে সঙ্গী করেই জমি থেকে পাট সংগ্রহ করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরেজমিনে দেবোত্তর, আটঘরিয়া পৌরসভা, মাঝপাড়া, একদন্ত, চাঁদভা ও লক্ষ্মীপুর এলাকার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কোথাও ধারালো দা দিয়ে পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও আঁটি বাঁধা হচ্ছে। আবার কোথাও ট্রলি, ভ্যান কিংবা কাঁধে করে পাট খাল, বিল ও জলাশয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জাগ দেওয়ার জন্য। অসহনীয় গরমে শরীর ঘামে ভিজে গেলেও জীবিকার তাগিদে থেমে নেই তাদের কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। কিন্তু বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
দেবোত্তর এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, পাট চাষ অত্যন্ত শ্রমসাপেক্ষ। বপন থেকে শুরু করে আগাছা পরিষ্কার, পরিচর্যা, কাটা, বহন, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানো—প্রতিটি ধাপেই প্রচুর শ্রম দিতে হয়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও এসব কাজ করতে হচ্ছে। তাই তারা পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
কৃষকদের ভাষ্য, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে দেশ-বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন তারা। অন্যদিকে ন্যায্যমূল্য না মিললে অনেক কৃষক পাট চাষ থেকে সরে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ ও ফলন সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদের সময়মতো পাট কাটা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া এবং উন্নতমানের আঁশ উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “সঠিক সময়ে পাট কাটা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে জাগ দেওয়া হলে আঁশের গুণগত মান ভালো থাকে। এতে বাজারেও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ সবসময় কাজ করছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের ঐতিহ্যবাহী এ অর্থকরী ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
