পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা-এ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ অফিস এবং উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে অফিস খোলার পর চুরির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার বা শনিবার দিবাগত গভীর রাতে অফিস বন্ধ থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল ভবনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এ চুরির ঘটনা ঘটায়।
হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি ৩২ ইঞ্চি ওয়ালটন এলইডি টেলিভিশন, একটি Core i5 ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি HP 220 সিরিজের ল্যাপটপ, একটি Nokia 3310 মোবাইল ফোন, একটি ফার্স্ট এইড বক্স, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, একটি ইউপিএস, পাওয়ার বোর্ড, ল্যাপটপ চার্জার, বইসহ বিভিন্ন সরকারি সরঞ্জাম। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের জানালার গ্রিল কেটে একটি কম্পিউটার, একটি মনিটর এবং সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল বক্স চুরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুরাইয়া খনম বলেন, সকালে অফিসে এসে নৈশপ্রহরীর কাছ থেকে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি মালামাল ও অফিস সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে নিশ্চিত হন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং চুরি হওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হোসাইন জানান, তাদের অফিস থেকে একটি কম্পিউটার, একটি মনিটর ও সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল বক্স চুরি হয়েছে। এ ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
