পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কেনাবেচায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী একদন্ত হাট। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই একদন্ত হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এটি ছিল একদন্তের শেষ হাট। ফলে ভোর থেকেই দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য কোরবানির পশু নিয়ে বাজারে আসতে থাকেন বিক্রেতারা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। বিকেলের দিকে বেচাকেনা চরমে পৌঁছায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্ত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি। পশুর সারি, ক্রেতাদের দর-কষাকষি এবং বিক্রেতাদের হাঁকডাকে পুরো বাজার এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। বিশেষ করে ছাগলের বাজারে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ছাগল নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা, আর ক্রেতারাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের পশু কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হাট ইজারাদারদের পক্ষে রবিউল ইসলাম মিঠু বলেন, “ঈদ উপলক্ষে আজ একদন্ত বাজারের শেষ হাট হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি। আমাদের পক্ষ থেকে বাজারে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কেনাবেচা করছেন।”
এক ছাগল বিক্রেতা জানান, “আমি দুইটি ছাগল নিয়ে এসেছি। দুইটির দাম মিলিয়ে ৯০ হাজার টাকা চেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ দাম পাইনি। বাজারে লোকজন অনেক হলেও সবাই কম দাম বলছে।”
রাধানগর এডওয়ার্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে আসা ছাগল বিক্রেতা শাহাদত উদ্দিন বলেন, “আমার ছাগলের দাম ৪০ হাজার টাকা চেয়েছি। কিন্তু ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন। ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকা পেলেই বিক্রি করে বাড়ি চলে যাব। কারণ শেষ হাট হওয়ায় আজই বিক্রি করতে চাই।”
এক ক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন, “ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পরিবারের জন্য একটি ভালো কোরবানির পশু কিনতে একদন্ত বাজারে এসেছি। বাজারে পশুর সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম তুলনামূলক একটু বেশি মনে হচ্ছে। তারপরও পছন্দমতো পশু কেনার চেষ্টা করছি।”
আরেক ক্রেতা মো. সোহেল রানা বলেন, “আজ একদন্ত বাজারের শেষ হাট হওয়ায় সকাল থেকেই বাজারে এসেছি। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে পশু দেখছি। দর-কষাকষি করে সামর্থ্যের মধ্যে ভালো একটি পশু কেনার আশা করছি।”
আরেক ছাগল ব্যবসায়ী জানান, “এবার পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশু লালন-পালনের খরচও বেড়েছে। সেই কারণে পশুর দাম কিছুটা বেশি। তবে ভালো মানের পশুর চাহিদা অনেক বেশি, বিশেষ করে বড় আকারের ছাগল ও গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, একদন্ত বাজার দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের অন্যতম বড় কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর ঈদুল আজহার আগে এই বাজারে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের আগে শেষ হাট হওয়ায় সোমবার একদন্ত বাজারে বেচাকেনা ছিল বছরের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় অনেক বেশি।
