ঢাকামঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদীতে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার গাছ কেটে সাবার করলো সরকারি কর্মকর্তাগণ

হাবিবুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক
জানুয়ারি ৬, ২০২৬ ৪:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

উত্তরবঙ্গের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন ঈশ্বরদীর মুলাডুলি খামারের জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে প্রায় তিন হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ কর্তন করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাশি সেচ প্রকল্পের আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুলাডুলি খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় ক্যানালের দু’পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়াই ও খেজুরসহ প্রায় ৩ হাজারের বেশি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বনবিভাগ থেকে গাছের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়মের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন বলেন, “কিছু গাছ কাটা হয়েছে এবং সেগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে আগুন হিটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী, মিল ও দেশ উপকৃত হবে।
তবে স্থানীয় একাধিক কৃষক ও বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অসঙ্গত। এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া গাছ কর্তন করা হলে তা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “একান্ত প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে গাছ কাটা যেত। কিন্তু এখানে ইক্ষুর আড়ালে হাজারো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তিনি অনুপস্থিত বলে জানানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে খামারী প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

খামারী প্রধান বাকী বিল্লাহর কার্যালয়েও তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ), ঈশ্বরদী জোনের সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা জেলা প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।” তবে বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মোবাইল ফোন একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!