পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রমের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আন্দোলনের মুখে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রাহকদের দাবি মেনে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ঈশ্বরদীতে আর কোনো প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেওয়া হবে না।
দাবি মেনে নেওয়ার এই অঙ্গীকারের পর তিন ঘণ্টাব্যাপী চলমান ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল এসে ঈশ্বরদী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সমবেত হয়। তারা এক পর্যায়ে ঈশ্বরদী–পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিয়ে অফিস ঘেরাও করে রাখেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আমরা এর আগে প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। তখন নেসকো কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবারও প্রিপেইড মিটার স্থাপনের চেষ্টা করছে— যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
জুলাই যোদ্ধা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিম মাহবুব প্রাপ্তি বলেন, “প্রিপেইড মিটারে কেউ উপকৃত হচ্ছেন না। বরং সাধারণ মানুষ শোষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি।”
আরও বক্তব্য দেন প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রতিরোধ কমিটির সংগঠক আ ফ ম রাজিবুল আলম ইভান, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি সিয়াম, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম ও গ্রাহক খোরশেদ আলম দিপু প্রমুখ।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে নেসকো অফিসে আলোচনার এক পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (আবাসিক) আব্দুন নুর গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামা দেন।
যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুন নুর বলেন, “গ্রাহকদের জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঈশ্বরদীতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
