পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় গবাদি পশুকে ক্ষুরা রোগ (ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ-এফএমডি) থেকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের এ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একযোগে গবাদি পশুকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এ সময় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত থেকে খামারিদের সচেতন করেন এবং গবাদি পশুকে টিকা প্রদান করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হোসাইন বলেন, ক্ষুরা রোগ গবাদি পশুর একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা প্রদান করা হলে রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এতে পশুর মৃত্যু ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতি কমার পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও হ্রাস পায়। তিনি উপজেলার সব খামারিকে নির্ধারিত সময়ে গবাদি পশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম মিশর বলেন, ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার অধিক সংখ্যক গবাদি পশুকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব কমবে, পশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং নিরাপদ প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মসূচির পাশাপাশি খামারিদের খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, অসুস্থ পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা, নতুন পশু খামারে আনার আগে নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয় খামারিরা জানান, সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হলে ক্ষুরা রোগসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রকোপ কমবে। এতে গবাদি পশুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন বলে তারা আশা করছেন।
