“তুমি কে, আমি কে—হাফসা, হাফসা” শ্লোগানে কাঁপলো পাবনার রাজপথ।
২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু হাফসাকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে সোমবার (১৭ নভেম্বর) উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো শহর।
গত ১৫ নভেম্বর পাবনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নানির বাড়িতে থাকা হাফসাকে হত্যার পর পাশের বাগানে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করলেও হত্যার দুইদিন পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
হাফসা মালঞ্চি ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের প্রবাসী হাফিজুর রহমানের মেয়ে। ঘটনার পরই সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
পুলিশের ধীরগতির তদন্তের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, মহিলা পরিষদ, ছাত্রদলসহ হাজারো মানুষ সড়কে নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে; পরে আব্দুল হামিদ সড়ক ও মেরিল বাইপাস সড়ক অবরোধ করলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়েও প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
বক্তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন—
“হাফসা হত্যার দুইদিন পেরিয়ে গেছে, এখনও ধর্ষণ বা হত্যার বিষয়ে কোন স্পষ্ট তথ্য দেয়নি প্রশাসন। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বিক্ষুব্ধ জনতা সতর্ক করে জানায়—কোন বাধা দেওয়া হলে আত্মাহুতি দিতে তারা কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেবে। ধর্ষক ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর থানা ওসি আব্দুস সালাম দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় জনতা।
