ঢাকাসোমবার , ২৫ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দাবদাহে স্বস্তির নাম তাল শাঁস, আটঘরিয়ায় জমজমাট বেচাকেনা

ফজলুর রহমান খান, আটঘরিয়া (পাবনা):
মে ২৫, ২০২৬ ৬:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

তীব্র গরম আর দাবদাহের মধ্যে প্রকৃতির এক অনন্য উপহার মৌসুমি ফল তাল। গ্রীষ্মের এই সময়টাতে তাল যেন গ্রামবাংলার মানুষের কাছে স্বস্তির আরেক নাম হয়ে উঠেছে। পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় এখন বিভিন্ন হাট-বাজার, অলিগলি ও রাস্তার মোড়ে জমে উঠেছে তাল শাঁসের বেচাকেনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ছে তাল বিক্রেতাদের ব্যস্ততা।

উপজেলার আটঘরিয়া সদর বাজার, দেবোত্তর বাজার, চৌবাড়িয়া বাজার, একদন্ত বাজার ও মূলগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে তাল বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কেউ ঠেলাগাড়িতে, কেউ ভ্যানে আবার কেউ রাস্তার পাশে ছোট ছোট স্টল তৈরি করে সাজিয়ে রেখেছেন তাজা ও রসালো তাল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে কিনছেন এই সুস্বাদু ফল।

তাল বিক্রেতা মানিক বলেন, প্রতিটি তাল ২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে। গরমের কারণে তালের চাহিদা অনেক বেড়েছে। মানুষ শরীর ঠান্ডা রাখতে তাল বেশি কিনছে। এতে তারও ভালো আয় হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রেতারা জানান, তাল শুধু সুস্বাদু ফল নয়, গরমের সময় শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাল খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে, পানিশূন্যতা কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের জন্য বেশি করে তাল কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের কাছে তালের চাহিদা বেশি।

গৃহিণীরা জানান, তাল দিয়ে তৈরি করা যায় বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। তালের পিঠা, তালের বড়া, তালের ক্ষীরসহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে কাঁচা ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া রান্নাতেও তালের ব্যবহার বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, তাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী মৌসুমি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও প্রাকৃতিক শর্করা, যা গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া তাল বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বাড়তি আয় করছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৌসুমি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। তালের মতো দেশীয় ফল শুধু মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে না, বরং অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকার উৎস হিসেবেও কাজ করছে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, গ্রীষ্মের দাবদাহে আটঘরিয়ার মানুষের কাছে তাল এখন শুধু একটি ফল নয়, বরং স্বস্তি, পুষ্টি ও বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!