নাটোরের লালপুরে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায়
সুষ্ঠ বিচার পেতে রবিবার রাতে লালপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন নবজাতক শিশুর মা জাহানারা খাতুন।
সোমবার (২৩ জুন২০২৫) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করছেন লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মমিনুজ্জামান। প্রসূতি জাহানারা খাতুন উপজেলার দক্ষিণ লালপুর গ্রামের ফয়সাল খানের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায় গত ১৯জুন বিকেলে প্রসূতি জাহানারা খাতুনকে উপজেলার পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ফারজানা ইসলাম বিভা ও হাসপাতাল কতৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারি হবে বলে আশ্বস্ত করে চলে যায়। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রসব ব্যাথা উঠলে হাসপাতালের নার্স ও স্টাফরা নরমাল ডেলিভারি করালে একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হয়। ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে নবজাতকের নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে রাতেই হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা শিশুটির চিকিৎসা প্রদানে গাফিলতি করেন।
জাহানারা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, নরমাল ডেলিভারিতে কোন জটিলতা আছে কিনা সে বিষয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাদেরকে কিছু জানান নাই। হাসপাতালে অদক্ষ নার্স ও স্টাফদের দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করার কারণে নবজাতক ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে তার নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে রাতেই হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা শিশুটির চিকিৎসা প্রদানে গাফিলতি করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার সময় নবজাতক শিশুর অবস্থা আশঙ্কা জনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০জুন শুক্রবার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়।
এব্যাপারে ডাক্তার মোছাঃ ফারজানা ইসলাম বিভার মুঠোফোন একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। পরে তাকে হুয়াট্স অ্যাপে মেসেজ দিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানুজ্জামান টিপু অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন হাসপাতালে চিকিৎসা বা সেবায় কোন ত্রুটি ছিল না। স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী বাচ্চা প্রসব করানো হয়। শিশুর হার্টবিট স্বাভাবিক ছিল তবে নবজাতক শিশু কান্না না করায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। পরে জানতে পারি বাচ্চাটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মমিনুজ্জামান জানান এঘটনায় প্রসূতি নারী হাসপাতালের পরিচালক, ডাক্তার ও নার্সসহ অজ্ঞাতনামা ২থেকে ৩জনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এব্যাপারে মামলাটি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
