ঢাকাবুধবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লিচুর রাজধানী ঈশ্বরদী-তে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

হাবিবুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৩:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

আশির দশক থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার মানুষ লিচুর চাষ করে আসছেন। তবে বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যাপক প্রসার লাভ করে ২০০০ সালের পর। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে রসালো ও সুস্বাদু লিচুর চাষ হচ্ছে। পুরো উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার ২৭০টি লিচুর বাগান রয়েছে।

গত বছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যেকোনো সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন চাষিরা।

লিচু চাষিদের তথ্যমতে, মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যেসব গাছে মুকুল আসে না, সেগুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। আর যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো মুকুলে ছেয়ে যায়।

এ উপজেলায় মূলত তিন জাতের লিচুর চাষ বেশি হয়—মোজাফ্ফর বা দেশি, বোম্বাই এবং চায়না-৩। এছাড়া কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ ও চায়না-২ জাতের লিচুও চাষ হচ্ছে। তবে স্বাদ ও বাজারচাহিদা বেশি হওয়ায় বর্তমানে চায়না-৩ জাতের চাষ বাড়ছে।

উপজেলার আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তারপুর, কদিমপাড়া, মানিকনগর ও ছিলিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ গাছে মুকুল আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নওদাপাড়া এলাকার লিচু চাষি আনোয়ার বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুল অনেক বেশি। আমার প্রায় শতাধিক গাছ রয়েছে। গত বছর ৩০ থেকে ৩৫টি গাছে লিচু এলেও এবার প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।”

দীঘা এলাকার চাষি আব্দুস সালাম বলেন, “গত বছর লিচু কম থাকায় লাভবান হতে পারিনি। তবে এবার গাছে প্রচুর মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, এবার ভালো লাভ হবে।”

নওদাপাড়া এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মেরিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকেন তারা। গত বছর লোকসান হলেও এবার পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, “গত বছর ফলন কম হলেও এবার গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। গত বছরের শেষদিকে বর্ষা আগেই বিদায় নিয়েছে। আবার রাতে শীত ও দিনে কিছুটা গরম থাকায় আবহাওয়া লিচুর জন্য অনুকূল রয়েছে। ফলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”

স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবার ঈশ্বরদীর লিচু উৎপাদন ও বাজারমূল্য—দুই ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!