সকালের প্রথম আলো ফুটতেই ঈশ্বরদীর আলহাজ মোড়ে শুরু হয় এক অন্যরকম কোলাহল। ভোরের নীরবতা ভেঙে শামুকখোল, পানকৌড়ি আর সারস পাখির কলতান ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কখনো দলবেঁধে গাছ থেকে আকাশে উড়ে যাওয়া, আবার কখনো মিলে ভেতরের শতবর্ষী কড়ই, আম বা নারিকেল গাছে বসে থাকা—সব মিলিয়ে যেন এক বিশাল পাখির রাজ্য।
কয়েক বছর আগে প্রথমে কয়েকশ পাখি এখানে এসে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজারে। আজ তাদের ডানা ঝাপটানি ও ভরাট ডাক মিলের চারপাশে এক অপূর্ব দৃশ্যের জন্ম দেয়।

আলহাজ টেক্সটাইল মিলে কাজ করা শ্রমিক আব্দুর রহিম বললেন,“শীত এলে প্রতি বছরই এরা আসে। এখন তো আমাদের প্রতিদিন ছাতা নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। কিন্তু তবুও আমরা খুশি, কারণ মিল কর্তৃপক্ষ সবাইকে নির্দেশ দিয়েছে যেন কেউ পাখিগুলোকে বিরক্ত না করে। এরা আমাদের মিলেরই অতিথি।”
শুধু শ্রমিক নয়, স্থানীয় মানুষজনও এ দৃশ্যে মুগ্ধ। কেউ থেমে ভিডিও করে, কেউবা ছবি তোলে। অনেকেই মনে করেন, প্রকৃতির এই আশীর্বাদ পরিবেশ রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখছে।
পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়ে তুলতে মিল কর্তৃপক্ষ এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে। আর উপজেলা প্রশাসনও দিয়েছে সমর্থন। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ জানান,“এখানকার মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে কেউ পাখিগুলোকে বিরক্ত বা শিকার না করে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও শিগগিরই ‘পাখির অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টাঙানো হবে।”
এভাবেই বছরের পর বছর মিলের অভ্যন্তরে ও আশেপাশে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেড়ে উঠছে শামুকখোল আর অন্যান্য অতিথি পাখি। কলতানে মুখর এই আলহাজ মোড় এখন ঈশ্বরদীর এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঠিকানা।
