ঈশ্বরদী পৌরসভার তিনবারের সাবেক মেয়র, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মকলেছুর রহমান বাবলু (৬৫) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি, হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, ভাই–বোন, আত্মীয়–স্বজন এবং অসংখ্য রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টায় শহরের ফতেহ মোহাম্মদপুর লোকো ফুটবল মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মকলেছুর রহমান বাবলু দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদীর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি তিনবার ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এছাড়া ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার আলোচিত মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর কারাভোগ করেন। পরে ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে মামলাটি খারিজ হলে তিনি ও অন্য আসামিরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা–৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ তার বাসভবনে ভিড় করেন।
প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে দিনভর তার বাড়িতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। শোকাহত পরিবেশে তারা মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
